শহীদ মিনারে জুতা পায়ে সদলবলে সংসদ সদস্য

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:২০ এএম

জামালপুর সদর উপজেলার বটতলা উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করেছে বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোজাফফর হোসেনসহ অতিথিদের সবাই জুতা পায়ে ওই মঞ্চে ওঠেন। ভাষার মাসে এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকেই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানানো হয়। আর মূল শহীদ মিনার কাপড় দিয়ে পেছনে ঢেকে রাখা হয়। অতিথিদের সামনে দেওয়া হয় বিশাল টেবিল এবং বসার জন্য চেয়ার। পাশেই বক্তব্য দেওয়ার জন্য ছিল মাইকের স্ট্যান্ড। বেলা ১টার দিকে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনসহ সব অতিথি একে একে জুতা পায়ে মঞ্চে উঠে চেয়ারে বসেন। বেদিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য লোকজনকেও জুতা পায়ে দেখা যায়। অনুষ্ঠানটি সাড়ে ৩টার দিকে শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল আলম।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আব্দুল জলিল, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এ কে আজাদ বাদল ও সদস্য মো. আবুল খায়ের খোকা মাস্টার, বাঁশচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল আলীম, সহসভাপতি মো. মাহামুদুল হাসান বাচ্চু, মো. শাহজাহান আলী, মো. সরোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

শহীদ মিনারে এভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় ক্ষুব্ধ অনেকেই। এ প্রসঙ্গে জামালপুরের ভাষা ও মুক্তিসংগ্রাম গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়া অন্য কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। জুতা নিয়ে শহীদ মিনারে পদচারণ করা ভাষাশহীদদের প্রতি অবমাননা এবং আইন অমান্য করা। যারা এ ধরনের আচরণ করবে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া উচিত।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল আলম বলেন, ‘অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। স্কুল কর্র্তৃপক্ষ সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আর সবাই তো সেখানে জুতা পায়ে দিয়ে উঠেছে, তাই আমিও উঠেছি।’

বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা বলেন, ‘প্রতি বছরই সেখানে অনুষ্ঠান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সেখানে করা হয়েছে। প্রধান অতিথিরাই যদি ওঠে, তাহলে আর কী।’

এদিকে সংসদ সদস্য মো. মোজাফফর হোসেনের দাবি, অনুষ্ঠানের মঞ্চ যে শহীদ মিনার, সেটা বুঝতে পারেননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেটা যে শহীদ মিনার, আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ভেবেছি সেটা একটি ভাঙা মঞ্চ। কেউ যদি আমাকে বলত, সেটা শহীদ মিনার, তাহলে আমি জুতা নিয়ে উঠতাম না। প্রয়োজনে আমি সেখান থেকে নেমে যেতাম।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত