রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তথ্যমন্ত্রী বলেছেন

হিন্দি সিনেমা আমদানিতে অসুবিধা নেই

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫১ এএম

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনের সয সমিতি এখন ভারতীয় হিন্দি সিনেমা আমদানির বিষয়ে একমত হয়েছে সুতরাং এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে অসুবিধা নেই। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সম্মিলিত চলচ্চিত্রের পরিষদ নেতাদের ‘নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশি (উপমহাদেশীয় ভাষার) চলচ্চিত্র আমদানি ও মুক্তি প্রসঙ্গে’ শিরোনামে পত্রটি মন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তার ও সদস্য রিয়াজ, প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশীদ, সহসভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন, প্রযোজক পরিবেশক সমিতির পক্ষে খোরশেদ আলম খসরু ও মোহাম্মদ হোসেন, ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া এবং সম্মিলিত চলচ্চিত্রের পরিষদের সদস্য সচিব শাহ আলম কিরণ উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসের।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় কিছু শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্টসংখ্যক ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানির ব্যাপারে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবাই একমত হয়েছেন এ জন্য তাদের অভিনন্দন। আমিও নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানির পক্ষে, অবাধ আমদানিতে আমাদের শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতীতেও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আমার কাছে ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানির দাবি উপস্থাপন করা হয়েছিল, পরে শিল্পী সমিতি আপত্তি জানিয়েছিল। সে কারণে আমি বারবার বলে এসেছি, সব সংগঠন একমত হয়ে বললে তখন আমরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারব। এখন সেটি সম্ভব। প্রস্তাব অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আনতে হবে।’

ড. হাছান বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশে আগের তুলনায় সিনেমা বেশি হচ্ছে এবং অনেক সিনেমা বক্স অফিস হিট করছে। কিন্তু এখনো প্রতি সপ্তাহে ভালোভাবে চালানোর মতো সিনেমা সবসময় হচ্ছে না, এটি বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার নিরিখে আপনারা সুচিন্তিতভাবে, ভেবেচিন্তে মতামত দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ ভারতীয় হিন্দি ছবি যদি আমদানি হয় তাহলে অনেকেই আবার হলমুখী হবে এবং তখন আমাদের বাংলা ছবিও দেখতে যাবে।’

সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদ তাদের পত্রে সরাসরি হিন্দি চলচ্চিত্র উল্লেখ না করলেও পরীক্ষামূলকভাবে দুই বছরের জন্য উপমহাদেশীয় বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে প্রথম বছরে ১০টি ও পরের বছরে ৮টি চলচ্চিত্র আমদানির ও প্রতি বছর ৫২ সপ্তাহের মধ্যে ২০ সপ্তাহ প্রদর্শনের কথা বলা হয়। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজার সপ্তাহে এগুলো প্রদর্শনযোগ্য নয়। এ ধরনের প্রতিটি সিনেমা আমদানি সংস্থাকে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদকে দিতে হবে এবং ছাড়পত্র নিতে হবে।

এদিকে গতকাল দুপুরে দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদাহরণ। আমাদের দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নিজের দায়বদ্ধতা আমরা চিন্তা করি না। উন্নত দেশে গণমাধ্যম স্বাধীনতার পাশাপাশি নিজের দায়বদ্ধতা নিয়েও তারা সচেতন থাকে। আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে সেটির অভাব আছে। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাংলাদেশে অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদাহরণ।’

এর আগে বক্তৃতায় হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। গণমাধ্যমে সমাজের চিত্রটা পরিস্ফুট হওয়া প্রয়োজন। সে জন্য গণমাধ্যমকে সমাজের অসংগতি এবং উপেক্ষিত মানুষের কথা এবং ভালো কাজের প্রশংসা তুলে ধরতে হয়। সমাজ এবং রাষ্ট্র অনেক সময় যেদিকে তাকায় না, যা নিয়ে ভাবে না সেগুলো তুলে আনা প্রয়োজন। আশা করি, দেশ টিভি এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

দেশ টিভির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান তৌফিকা করিমের সভাপতিত্বে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত