পুরান ঢাকার নিমতলী-চুড়িহাট্টা-আরমানিটোলা ট্র্যাজেডির পর জোরেশোরে তদন্তে নেমেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান। মাসখানেক ধরে চলে তদন্ত। সুপারিশ করা হয় পুরান ঢাকায় কোনো কেমিক্যাল কারখানা রাখা যাবে না। এমনকি যেসব কারখানা সরাতে হবে তার একটি তালিকাও করা হয়। তালিকায় উঠে আসে ১ হাজার ৯২৪টি কারখানার নাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির নির্দেশ উপেক্ষা করে বহাল তবিয়তে ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে এখনো ঝুঁকিতে পুরান ঢাকা। অভিযোগ উঠেছে, কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক নেতাদের বলয়ে থাকার কারণে তাদের সরানো যাচ্ছে না। এমনকি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক নেতাও। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর সিটি করপোরেশন, শিল্প মন্ত্রণালয়, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, বিস্ফোরক পরিদপ্তরসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। কেমিক্যাল কারখানার তালিকা মন্ত্রিসভায়ও জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানান্তরে আলোর মুখ দেখেনি। যদিও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, পুরান ঢাকায় ২৫ হাজার কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে। এসবের মধ্যে ১৫ হাজার আছে খোদ বাসাবাড়িতে। মাত্র আড়াই হাজার গোডাউনকে ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে সিটি করপোরেশন। বাকি ২২ হাজারের মতো গোডাউন অবৈধ। এসব গোডাউনে ২০০ ধরনের ক্ষতিকর ও ঝুঁঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের ব্যবসা চলছে।
এদিকে চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডিতে নিহত জুম্মনের ছেলে আসিফ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় মামলা করেছিলেন। প্রায় তিন বছর পর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার মডেল থানার তৎকালীন ওসি আবদুল কাইউম। মামলার আসামিরা সবাই বর্তমানে জামিনে আছেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দা হাফসা ঝুমা চার্জ গঠন করেন। আগামী ১৪ মার্চ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানাগুলো সরাতেই হবে। এই নিয়ে আমরা কাজ করছি। নিমতলী ও চুড়িহাট্টায় ঘটনার পর মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি যে সুপারিশগুলো দিয়েছে তা আমলে নেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি সুপারিশ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যাবে।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ নারী-পুরুষ ও শিশু মারা যাওয়ার পর চকবাজারে চুড়িহাট্টার ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অঙ্গার হয়ে যায় ৭১টি প্রাণ।
দুর্ঘটনার পর ঢাকার বাইরে কেমিক্যাল পল্লী গড়ে তুলতে হাতে নেওয়া হয় প্রকল্প। কিন্তু প্রকল্পের কাজ কিছুই হয়নি। পুলিশ সূত্র জানায়, নিমতলী ট্র্যাজেডির পর পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল সংক্রান্ত নতুন ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রেখেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আগের যেসব কেমিক্যাল ব্যবসায়ী ছিলেন তাদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নও বন্ধ রাখা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেমিক্যাল কারখানা না সরালে বড় ধরনের অগ্নিকা- ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। পুরান ঢাকার আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো কেমিক্যাল কারখানা গজিয়ে উঠেছে। বৈধর চেয়ে অবৈধ কারখানাই বেশি সেখানে। প্রশাসন জেনেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
