রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পরমাণু চুক্তি স্থগিত ঘোষণা পুতিনের

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৪৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্ট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ভøাদিমির পুতিন। গতকাল মঙ্গলবার তার বার্ষিক স্টেট অব দ্য ন্যাশন ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এ ঘোষণা দিলেন। ওই ভাষণে তিনি যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের দায়ী করে বলেছেন, রাশিয়াকে ধ্বংস করতে বিশ্বযুদ্ধ বাধাতে চায় তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আকস্মিক সফরের পরদিনই পুতিনের এমন ঘোষণা বিশ্বকে আরও বিপজ্জনক জায়গায় নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও পুতিনকে বিষয়টি ফের বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ। পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে শুধু নিউ স্টার্ট চুক্তিই কার্যকর ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ২০১০ সালে এ চুক্তিতে সই করেছিলেন। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া মোট কী পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে, তার সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। তাতে উভয় দেশের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সুযোগ ছিল। ২০২১ সালে চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছরের জন্য বাড়িয়েছিল সামরিক দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দুই দেশ। সে হিসেবে ২০২৬ সাল অবধি মেয়াদ ছিল ওই চুক্তির। তবে পরিস্থিতির বিবেচনায় গতকাল তা বাতিল ঘোষণা করেন পুতিন।

পুতিন তার ভাষণে বলেন, আমি আজ এ ঘোষণা দিতে বাধ্য হলাম যে স্ট্র্যাটেজিক অফেনসিভ আর্মস ট্রিটিতে অংশগ্রহণ স্থগিত করছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র যদি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়, তাহলে রাশিয়ারও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়া দরকার।

রয়টার্স বলছে, পুতিন তার ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ বাড়িয়ে তোলার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাতের মঞ্চে মস্কোকে পরাজিত করতে পারবে, এমন একটি ভুল ধারণা নিয়ে তারা এটা করছে।

পশ্চিমাদের বৈশ্বিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে পুতিন বলেছেন, রাশিয়াকে এ যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। যুদ্ধে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের দুঃখ-কষ্ট তিনি অনুধাবন করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনগণ কিয়েভের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ও তাদের পশ্চিমা তাঁবেদারদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। যারা দেশটিকে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পুরোপুরি দখল করে আছে।

পশ্চিমা দেশগুলো আঞ্চলিক একটি যুদ্ধকে বৈশ্বিক সংঘাতের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় মন্তব্য করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, পশ্চিমাদের তৎপরতাকে রাশিয়া ঠিক এভাবেই দেখছে। এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। কারণ এটা রাশিয়ার অস্তিত্বের বিষয়।

যুদ্ধে রাশিয়াকে পরাজিত করা অসম্ভব বলে মন্তব্য করে পুতিন বলেন, রুশ সমাজকে বিভক্ত করতে পশ্চিমাদের যে চেষ্টা, তার সামনে কখনো নতিস্বীকার করবে না রাশিয়া। আর ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে বেশিরভাগ রুশ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে।

ভাষণে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। পাশাপাশি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়া যেসব বিষয়ের মুখোমুখি হয়েছে, তা ‘সাবধানে ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার’ মধ্য দিয়ে সমাধান করা হবে।

এদিকে পুতিনের এমন ঘোষণার তাৎক্ষণিক অফিশিয়াল কোনো প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আসেনি। তবে গ্রিস সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, রাশিয়ার সিদ্ধান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং মস্কো আসলে কী করে তা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে।

অন্যদিকে গতকাল ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটটির প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে অংশগ্রহণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বিশ্বকে আরও বিপজ্জনক জায়গায় পরিণত করেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা এবং ইইউ পররাষ্ট্রনীতির প্রধান জোসেপ বোরেলের পাশে দাঁড়িয়ে স্টলটেনবার্গ সাংবাদিকদের বলেন, আরও পারমাণবিক অস্ত্র এবং কম অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশ্বকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।

পশ্চিমারা রাশিয়াকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বলে পুতিনের অভিযোগের জবাবে স্টলটেনবার্গ বলেন, প্রায় এক বছর আগে মস্কো ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেছিল। প্রেসিডেন্ট পুতিনই এ সাম্রাজ্যিক বিজয়ের যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। তিনি আরও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটা আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা এবং পুরো বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক হবে। তিনি মস্কোকে চুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত