চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হয়েছে। রামদা, কিরিচ-দা নিয়ে গত সোমবার রাতে আবাসিক হলের কক্ষ দখল নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের দুই অংশ আলাওল হলের একটি কক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহত নেতাকর্মীদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোমবার রাত ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে আলাওল হলের একটি কক্ষ দখল নিয়ে তর্কাতর্কির জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও এবং ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন।
চবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চবি চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভাশিস চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনায় আহত ১২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। একজনের আঘাত গুরুতর। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী হলের বিজয় গ্রুপের নেতা ও সহসভাপতি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলাওল হলে আমাদের পক্ষের ৫৭টি কক্ষ রয়েছে। ইলিয়াসের অনুসারীরা আলাওল হলের একটি কক্ষের তালা ভেঙে দখলে নিয়েছে। কক্ষ ফেরত চাইতে গেলে ইচ্ছাকৃতভাবে তার (ইলিয়াস) অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা করে। এরপর আমরা প্রতিহত করেছি।
বিজয় গ্রুপের নেতা মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘আমরা ফুল দেওয়ার জন্য শহীদ মিনার যাচ্ছিলাম। হঠাৎ সোহরাওয়ার্দী হলের নেতাকর্মীরা আমাদের গতিরোধ করে হামলা করে। আমাদের নেতা এস এম ফয়সাল ও অনিক দাসকে কুপিয়ে জখম করে তারা।
গত বছর ৩১ জুলাই নেতৃত্ব এবং পদ পাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে বিজয় গ্রুপ। এক পক্ষ আলাওল। আরেক পক্ষ এ এফ রহমান হলের দখলে। আরেক পক্ষ সোহরাওয়ার্দী হলে। সোহরাওয়ার্দী হলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম ও পদবঞ্চিত দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন নেতা। আলাওল এবং এ এফ রহমান হলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ।
