বাহ্যিকভাবে নান্দনিক এবং বসবাসে স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করবে উইকন প্রপার্টিজের ফ্ল্যাট। উইকনের পক্ষ থেকে এমন নিশ্চয়তাই দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সব ফ্ল্যাট বিক্রি হয়ে যায়। আর এর অন্যতম কারণ বলে দাবি করা হয়, ফ্ল্যাট ক্রেতাদের পরিচিত আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধব উইকনের ডিজাইনের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা হলে তারা আগেভাগেই বুকিং দিয়ে রাখেন নতুন প্রকল্পে যেন তাদের জন্য ফ্ল্যাট রাখা হয়। আর এই আত্মবিশ্বাস থেকে আবাসনশিল্পে আসার মাত্র চার বছরের মধ্যে ১২টি প্রকল্প নিয়েছে উইকন প্রপার্টিজ; যা বর্তমান বাজারে অকল্পনীয় বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট মহল।
এই অকল্পনীয় কাজটি করছে একদল তুখোড় তরুণ তুর্কি। যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ভবনের ডিজাইনের কাজ করছে, আবার কেউ নির্মাণে অভিজ্ঞ। সব মিলিয়ে উইকন প্রপার্টিজ চট্টগ্রাম শহরে ধূমকেতুর মতো আগমন ঘটলেও বাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত রাখার আভাস দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আশরাফুল ইসলাম আলভি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা রিয়েল এস্টেটে আসার আগে পিটুপির মাধ্যমে নকশা প্রণয়ন, ভবন নির্মাণ, নির্মাণ উপকরণ, ইন্টেরিয়রসহ সব ধরনের সেবা দিয়ে আসছি ২০১৩ সাল থেকে। ২০১৪ সালে আমরা কাজ করেছি ভবনের নির্মাণ উপকরণ নিয়ে, ২০১৫ সালে নকশা প্রণয়নে ও ফার্নিচার তৈরিতে, ২০১৬ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ শুরু করি। আর এই অভিজ্ঞতা পুঁজি করে ২০১৯ সালে আবাসনশিল্পে আসা। দেশে রড, সিমেন্ট, ফার্নিচারসহ সব ধরনের নির্মাণ উপকরণ আমাদেরই নিজস্ব। আর এতেই আমরা এগিয়ে থাকব এই শিল্পে।’
প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গার ওপর জাকির হোসেন রোডে দক্ষিণ খুলশী আবদুল মালেক সড়কে নির্মিত ‘উইকন নূহ’স কেভ’ অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ১৮ মাসে। করোনাকালে এই অসাধ্য কাজটি করেছে উইকন প্রপার্টিজ। এটি উইকনের প্রথম প্রকল্প। যেখানে অনেক ডেভেলপারের প্রকল্প হস্তান্তরের গড় সময় পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ ৬০ কিস্তিতে প্রকল্পের ফ্ল্যাট গ্রহণের সুবিধা দিয়ে থাকেন ডেভেলপাররা, সেখানে মাত্র ১৮ মাসে প্রকল্প হস্তান্তর কীভাবে সম্ভব? তবে শুধু এই প্রকল্পই নয়, ইতিমধ্যে উইকনের আওতায় নির্মাণাধীন বাকি প্রকল্পগুলোও দেড় বছরে হস্তান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কীভাবে এ কাজ করছে উইকন?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আশরাফুল ইসলাম আলভির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অন্যরা যেখানে কাজ করে আট ঘণ্টা। আমরা সেখানে কাজ করি ২৪ ঘণ্টা (তিন শিফট)। এতে অন্যরা এক বছরে যে পরিমাণ কাজ করতে পারে, আমরা তা চার মাসে সম্পাদন করতে পারি।’
উইকন প্রপার্টিজ নগরীর পাঁচলাইশে ‘উইকন শুকরানা’ নামে একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রিমিয়াম সেই প্রকল্পের স্থাপত্য নিদর্শন অনন্য। ১২তলা ভবনের প্রতি ফ্লোরে তিনটি করে ইউনিট রয়েছে। সুইমিং পুল, গার্ডেন, ওয়াকওয়ে, জিম, কিডস প্লে জোন, নামাজের জন্য জায়গাসহ ভবনে বসবাসকারীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটির ডিজাইনেও রয়েছে পুরাকীর্তি ও আধুনিক স্থাপত্যের মিশেল। উইকনের প্রায় প্রতিটি ভবনেই আধুনিক স্থাপত্য এবং নির্মাণ উপকরণ বিলাসবহুল।
এ বিষয়ে কথা হয় উইকনের আর্কিটেক্ট ও পরিচালক মেহেদী ইফতেখারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভবন নির্মাণে ডিজাইন করতে গিয়ে গ্রাহককে সর্বোচ্চ লাক্সারিয়াস সুবিধা দেওয়ার কথা বিবেচনা করি। একই সঙ্গে ভবনের ইন্টেরিয়র এবং বৈদ্যুতিক পয়েন্ট জুতসই স্থানে বসানো হয়। ফ্ল্যাটের প্রতিটি জায়গা পরিমাপ করে ডিজাইন করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানসম্মত অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা এই শহরে রয়েছে। তাই আমরা প্রিমিয়াম ফ্ল্যাট নির্মাণ করছি। একই সঙ্গে আমরা বাতাসে আয়তন মেপে কোনো মূল্য নিচ্ছি না; অর্থাৎ একজন ক্রেতা যত বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করবেন, ঠিক ততটুকুর মূল্য পরিশোধ করবেন। প্রতিটি জায়গা ইঞ্চি পরিমাণ মেপে ক্রেতা বুঝে নিতে পারবেন।’
বর্তমানে দক্ষিণ খুলশী ভিআইপি আবাসিক এলাকায় উইকন মে বেরি, রহমান নগরে উইকন ইকরা, কাতালগঞ্জে উইকন ক্যানোপি, চট্টেশ্বরী রোডে উইকন এম এন টাওয়ার ও উইকন রেইন ফরেস্ট, আমিরবাগে উইকন জেএম সাউথ লন, উত্তর খুলশীতে উইকন নর্থ, ওআর নিজাম রোডে উইকন মমতাজ ম্যানোর, হালিশহর জি ব্লকে উইকন হকস বে ল্যান্ডমার্ক, গোলপাহাড়ে উইকন স্কাইরিজ নামে প্রকল্প নিয়েছে উইকন।
