ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে নির্যাতনের পর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন নির্যাতনের শিকার ছাত্রী ও অভিযুক্তরা। গতকাল বুধবার দুপুর ৩টার দিকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন অ্যাকাডেমিক ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কক্ষে তাদের মুখোমুখি করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। কথা বলা শেষে নির্যাতনের শিকার ছাত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও মুখ খুলেননি অভিযুক্তরা। তারা গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে মুখ লুকিয়ে চলে যান।
এদিকে নির্যাতনের শিকার ফুলপরী খাতুনের কাছে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার সহযোগীরা হাত-পা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলে বের হওয়ার সময় ফুলপরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তবে ফুলপরীর এই বক্তব্যের বিষয়ে অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী কোনো কথা বলেননি।
তদন্ত কমিটির ডাকে গতকাল বেলা ১২টার দিকে পাবনার গ্রামের বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে আসেন ফুলপরী খাতুন। এ সময় সঙ্গে তার ভ্যানচালক বাবাও ছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টরের তত্ত্বাবধানে তাদের দেশরতœ শেখ হাসিনা হলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হল কর্র্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ফুলপরীর সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা কথা বলেন। অন্যদিকে নির্যাতনে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার সহযোগীরা গোপনে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। এমনকি বিষয়টি গোপন রাখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ ও তদন্ত কমিটি। পরে দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেবা ম-লের কক্ষে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের ঢোকানো হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তরা ছাড়াও ছিলেন তাবাসসুম ইসলাম, মোয়াবিয়া জাহান, হালিমা খাতুন উর্মি ও ইশরাত জাহান মীম।
সেখান থেকে বেরিয়ে ফুলপরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত কমিটির কাছে আমি নির্যাতনকারীদের চিনিয়ে দিয়েছি। এ সময় তারা আমার হাত-পা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু আমি যা সত্য তাই বলেছি। এছাড়াও তারা কান্না কান্না ভাব নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন। তদন্ত কমিটির কাছে আমি নির্যাতনে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছি।’
নির্যাতনকারীদের দেখে ভয় পেয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনোরকম ভয় পাইনি। বরং তাদের সামনেই সব বলেছি।’
পরে ফুলপরীর বাবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনার পরে মেয়েকে নিয়ে চারবার ক্যাম্পাসে এলাম। মেয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবুও তদন্তের স্বার্থে আসতে হয়েছে। এছাড়াও আর্থিকভাবে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তবুও এর সুষ্ঠু বিচার চাই আমি।’ সঠিক বিচার না পেলে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।
ফুলপরীর হাত-পা ধরে অভিযুক্তদের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সত্য কি না, তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কাছে তা জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি ক্যাম্পাসে : নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে গতকাল বেলা ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে আসেন হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তারা প্রক্টরের সঙ্গে এক ঘণ্টা কথা বলেন। পরে দেশরতœ শেখ হাসিনা হলে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
এদিকে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনার বিচার চেয়ে ক্যাম্পাসে গতকাল মানববন্ধন করেছে শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’। মানববন্ধন থেকে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
