কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:২০ এএম

বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপসমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শান্ত কুমার রায়। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা গত মঙ্গলবার রাতে নবীনগর থানায় সাতটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

শান্ত কুমার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নির্মল রায়ের ছেলে। লিখিত অভিযোগে নির্মল রায়ের নামও রয়েছে।

জানা যায়, শান্ত কুমার ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি এলাকায় সিগারেটের এজেন্ট ও স্বর্ণের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রামে তার বাবার কয়েকটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে এমন কথা বলে বাবার সহযোগিতায় এবং কিছু নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে শান্ত এলাকায় তার ঘনিষ্ঠজনদের টার্গেট করে ব্যাংক হারের চেয়ে বেশি সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে বলেন। এভাবে বিনিয়োগ নিয়ে উপজেলার সলিমগঞ্জ বাজার থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

গত শনি ও রবিবার অনেকের টাকা ফেরত দেওয়ার তারিখ ছিল। ওই দিন থেকেই শান্ত উধাও, তার আর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সোমবার থেকে তার মোবাইল ফোনের অবস্থান দেখাচ্ছে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায়। অনেকের ধারণা, শান্ত ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন।

শান্তর বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল গ্রামের হক। এ ছাড়া মো. সুজন মিয়া ২০ লাখ, আব্বাস উদ্দিন ২০ লাখ ৬০ হাজার, সগির মিয়া ১২ লাখ, শ্যামল চন্দ্র দাস ৮ লাখ ৬০ হাজার, অক্লান্ত চন্দ্র দেবনাথ ৩ লাখ ও নিখলী গ্রামের খোরশেদ আলম ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এ ছাড়া থোল্লাকান্দি গ্রামের বিকাশ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের ৩৯ লাখ, একই গ্রামের আতিকুর রহমান রনি (বিকাশের দোকান) ৩ লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের মুক্তারামপুরের শাহ জালাল (বিকাশের দোকান) ৫৩ লাখ, ধরাভাঙ্গা গ্রামের বাবলু মিয়া ১১ লাখ, বাড়াইল গ্রামের (বিকাশের দোকান) মাহফুজুর রহমান ৩ লাখ, মুরাদনগরের বাদল মিয়ার ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে শান্ত ও তার বাবা নির্মল রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তারা থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

শান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছাত্রলীগের সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে রিফাত আহম্মেদের কাছ থেকে ৮ লাখ, বড়িকান্দি ইউনিয়নের সভাপতি পদ দেওয়ার কথা বলে জাহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অভিযোগকারী মো. হক জানান, শান্ত ও তার বাবা ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় সময়ই টাকা নিতেন। আবার ফেরতও দিয়ে দিতেন। সর্বশেষ ৪০ লাখ নিয়েছেন, অন্য কারও কাছ থেকে টাকা নিতেন এটা আগে জানা ছিল না। এখন শুনতে পাচ্ছেন তার মতো ৩০-৪০ জনের কাছ থেকে শান্ত কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি সাইফুদ্দিন আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের নির্মল রায় ও তার ছেলে শান্ত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগ পেয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত