মানবমনের ঐকান্তিক ইচ্ছার সনদ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:৩২ পিএম

বাংলাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক ডাকঘর। নাটকটি শুধু বাংলাভাষীদের মধ্যে নয়, অনূদিত হয়ে প্রশংসা পেয়েছে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য সমঝদারের কাছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, সার্থক নাটকের উপাদান বলতে যা যা বোঝায় প্লট, চরিত্র, নাটকীয়তা, বস্তুধর্মিতা, সংঘাত, উৎকণ্ঠা ইত্যাদি এখানে তেমনভাবে প্রবল নয়। তা সত্ত্বেও নাটকটির লিখিত রূপ ও মঞ্চরূপ উভয়ই তুমুলভাবে জনপ্রিয়।

ডাকঘর নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যায় অমল নামের একটা রুগ্ণ শান্তশিষ্ট অসহায় বালককে। সে মাধব দত্তের স্ত্রীর গ্রাম সম্পর্কের ভাইপো হচ্ছে। নিঃসন্তান মাধব দত্ত অমলকে দত্তক গ্রহণ করেছেন। শুরু থেকেই অমল রুগ্ণ, অসুস্থ। কবিরাজ মত দিয়েছেন, বাইরের আলো হাওয়া তার অসুস্থতা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মাধব দত্ত, অমলের মেসোমশাই তাকে ঘরের বাইরে বের হতে দেন না। কিন্তু বাইরের পৃথিবী প্রতিনিয়ত অমলকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। বেচারা অমল তাই জানালার পাশে বসে থাকে, জানালা দিয়ে বাইরের পৃথিবীর যতটুকু দেখা যায় ততটুকু দিয়েই মনের আশ মেটায়। জানালা দিয়ে সে দেখে দূরের নীল আকাশ, মেঠোপথ। জানালার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অমল ডাকে অনেক দূর থেকে পুঁটুলি বাঁধা লাঠি কাঁধে হেঁটে আসা পথিক, দুপুর রোদে ভাড় কাঁধে নিয়ে হাঁকতে হাঁকতে চলে যাওয়া দইওয়ালা, রাস্তার ছেলের দল, প্রহরী, শশী মালিনীর মেয়ে সুধাকে। তারা অমলের সঙ্গে কথা বলে। অমল তাদের কাছে বাইরের পৃথিবীর গল্প শোনে। শুনে বিস্মিত হয়। অমল সবসময় ওই দূরের পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। বন্দি জীবনের এক অব্যক্ত যন্ত্রণা তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। সেটা সে মাধব দত্তের কাছে প্রকাশও করে।

ডাকঘর নাটকটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সাঙ্কেতিক নাটক। মানব মনের ঐকান্তিক ইচ্ছা, মুক্তির চিরআকাক্সক্ষা নাট্যকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অমলের চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এই নাটকটি নানা আলোচনা সমালোচনারও জন্ম দিয়েছে। কেউ মনে করেন, মৃত্যুই মানুষের নিয়তি তাই প্রকাশ করছে এই সাঙ্কেতিক নাটক; আবার কেউ মনে করেন, এই নাটকে জীবনের জয়গানই গীত হয়েছে। বিশ্বসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য এই নাটকটি পড়তে পারো, পড়ে দেখো তোমার কী মনে হয় এই নাটকে জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে নাকি দেখানো হয়েছে নিয়তির কাছে মানুষের পরাজয়!

 সুলতানা রাজিয়া

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত