পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আরেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তিনি হলেন বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) ড. মো. নাজমুল করিম খান। কর্মরত ছিলেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের সদস্য সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. মো. নাজমুল করিম খানকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নম্বর আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
এ বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইনটির ৪৫ ধারা অনুযায়ী কারও চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস ছাড়াই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। তবে বিসিএস ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আগে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হয়। নাজমুল করিম খান বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং জাপান থেকে কৃষিতে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
এ নিয়ে গত অক্টোবর থেকে ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো। গত বছরের ১৬ অক্টোবর পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয় সরকার। এর আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত ছিলেন। এর দুই দিন পর সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী ও মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এসপি (টিআর) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চৌধুরীকে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
গত ৩১ অক্টোবর দুজন অতিরিক্ত ডিআইজিকেও (অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক) বাধ্যতামূলক অবসর দেয় সরকার। তারা হলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহবুব হাকিম ও সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর আলম। এরপর গত ২১ নভেম্বর সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় এসপি জিল্লুর রহমানকে। আর গত ২০ ডিসেম্বর সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মুনির হোসেনকে অবসরে পাঠানো হয়।
