ডায়েট মানে নিজের খাদ্যাভ্যাস থেকে সরে অন্য একটি খাদ্যাভ্যাসে আপনাকে যেতে হবে এমনটি নয়। শরীরের অবস্থা বুঝে খাদ্যাভ্যাসে কিছু বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন করে নিতে হয়। তার পাশাপাশি জীবনযাত্রারও কিছু পরিবর্তন দরকার হতে পারে। প্রয়োজন হয় না কোনো সাপ্লিমেন্ট বা অস্বাভাবিক কোনো খাদ্যাভ্যাসের। শুধু ওজন কমানোই ডায়েটিং নয়। ডায়েটিং মানে কী জানালেন ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রধান পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার
মানুষের ওজন বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে, কারও হতে পারে কোলেস্টেরল কমানো। এমনও হতে পারে হঠাৎ হয়তো দেখা যাচ্ছে কারও রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেছে। শরীরে শক্তি পাচ্ছেন না, অসম্ভব দুর্বলতা আপনাকে গ্রাস করছেÑ এগুলোও হতে পারে। দেহের প্রতিটি অর্গানের সুস্থতা বজায় রাখতে আমাদের অর্গানগুলোর যতœ নেওয়া জরুরি। অনেকেই আছেন নিজেদের সমস্যা না ভেবেই ডায়েটিং করেছেন, যা আপনার জন্য পরে ক্ষতির কারণ হতে পারে। অনেকেই ডায়েটিং ওজন কমাতে চান, তা সম্পূর্ণই নিজের খাদ্যাভ্যাস-বহির্ভূত। যার জন্য স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ওজন যেভাবে কমেছিল তার দ্বিগুণ হারে বেড়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, সে-ই অস্বাভাবিক ডায়েটিংয়ে ইনডাইজেশন, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, গ্লুকোজের অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা, অতিমাত্রায় কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি, রক্তস্বল্পতা, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া, হরমোনাল ডিসটার্বেন্স দেখা দিচ্ছে। এমনও হতে দেখা গেছে, হঠাৎ কোনো অসুখ হলে ওষুধ যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ওষুধও ঠিকমতো কাজ করে না।
অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া কখনোই কোনো ডায়েটিং করা উচিত নয়। সব সময় সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনেই আপনি আপনার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন।
এমনও দেখা গেছে, অনেকে ওজন কমানোর ডায়েটিংয়ের সময় অনেকটা অসামাজিকও হয়ে যান। যেমন দাওয়াতে না যাওয়া অথবা গেলেও কিছু না খাওয়া ইত্যাদি। এগুলো কোনো ডায়েটিংই নয়। মানুষ সামাজিক জীব। সঠিক উপায়ে সবই করতে পারবেন। অনেকে রাতে দাওয়াত থাকলে, সারা দিন না খেয়ে থাকেন, রাতে খেতে হবে তাই। এগুলোরও কোনো প্রয়োজন নেই। দাওয়াতে যাওয়ার আগে এক বাটি সালাদ অথবা একটি মৌসুমি ফল খেয়ে বের হবেন। অর্থাৎ খালি পেটে দাওয়াতে যাবেন না। যেসব খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকবে সেগুলো থেকে কার্বোহাইড্রেট বর্জন করে বাকি সবকিছুই খেতে পারেন। যেমন : রোস্ট, কাবাব, ভেজিটেবল, সালাদ, ডেজার্ট ইত্যাদি। বোরহানি থাকলে সেটিও নিতে পারেন। কোল্ডড্রিংকস থাকলে কালারলেস অল্প পরিমাণে নিতে পারেন। ঘরে ফিরে লাইফস্টাইল মডিফিকেশন হিসেবে লেবুপানি পানের পাশাপাশি সামান্য সময় হলেও ফ্রি-হ্যান্ড কিছু ব্যায়াম করে নিন। নিজেকে প্রাণবন্ত রাখুন। সঠিক নিয়মে অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শে সুস্থ থেকে ডায়েটিং করুন।
