গেমস আয়োজনেই যেন দায়িত্ব শেষ না হয়

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:১০ এএম

শেখ কামাল দ্বিতীয় বাংলাদেশ যুব গেমসের চূড়ান্তপর্ব শুরু হচ্ছে আগামীকাল। এবারের আসরের মশাল বাহকদের একজন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী। যুব গেমস নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা বললেন দেশ রূপান্তরের তোফায়েল আহমেদকে। চোটের সঙ্গে লড়াইয়ে থাকা তারকা নিজেকে নিয়েও বলেছেন অনেক কিছু

যুব গেমসের দ্বিতীয় আসরের চূড়ান্তপর্ব শুরুর অপেক্ষা। বাংলাদেশের খেলাধুলার প্রেক্ষাপটে এই গেমসকে কীভাবে দেখেন?

আব্দুল্লাহ হেল বাকী: যেকোনো প্রতিযোগিতাই খেলোয়াড়দের জন্য ইতিবাচক ব্যাপার। যুব গেমস বয়সভিক্তিক পর্যায়ের খেলা। তাই নতুনদের জন্য এটা খুব কাজে আসবে। বিভিন্ন ফেডারেশনের খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভালো প্রভাব রাখবে এই আসর। অন্তত বোঝা যাবে যে, নতুন অবস্থাতেই কারা ভালো, কাদের ওপর যতœ নেওয়া বা নজর দেওয়া উচিত। কোন খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিসের মধ্যে রাখা উচিত। আমার কাছে মনে হয়, এগুলো খুবই ইতিবাচক দিক।

অর্থাৎ খেলোয়াড়দের উঠে আসার বড় মঞ্চ এটা...

বাকী: সে তো বটেই। তবে গেমস আয়োজনেই যেন দায়িত্ব শেষ না হয়। এখান থেকে খেলোয়াড় নির্বাচন করতে হবে। সম্ভাবনাময়দের সবদিক দিয়ে যত্ন নিতে হবে। অনুশীলন সুবিধা, আর্থিক সুবিধা বা স্পন্সর, এগুলো নিশ্চিত করে নির্বাচিতদের অনুশীলনটা চালিয়ে নিতে হবে সবসময়। যেন ওরা উন্নতি করতে পারে এবং সামর্থ্যরে সেরা অবস্থানে যেতে পারে।

এই গেমসে বিকেএসপির খেলোয়াড়রা তাদের নিজ নিজ জেলার হয়ে খেলতে পারছেন। তাদের সঙ্গে তো তৃণমূলের খেলোয়াড়দের ব্যবধান অনেক থাকে...

বাকী: বিকেএসপিতে তো বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়রাই ট্রায়াল ও বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ভর্তি হয়। এই যে একটা ছেলে কোনো জেলা বা উপজেলা থেকে বিকেএসপিতে ভর্তি হচ্ছে, এটা তো তার ব্যক্তিগত ক্রেডিট। কারণ বিকেএসপিতে আসার আগেই তো তার শেখার শুরু। যখন নিজ জেলাকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আসে তখন সেই সুযোগ খেলোয়াড়রা নিতেই পারে।

গেমসটাকে আরও কার্যকর করতে আর কী যোগ করা যেতে পারে?

বাকী: আমি সেভাবে কিছু বলতে চাই না। এর আগে একবার এই গেমস হয়েছে। এবার নিশ্চয়ই আরও কার্যকর কিছু হবে। শুটিংয়ের কথা যদি বলি, এই প্রতিযোগিতার পরই যেন সব বন্ধ হয়ে না যায়। খেলোয়াড়দের পরিচর্যা যেন করা হয়। শুধু সিলেকশন করলেই হবে না। খেলোয়াড়দের আর্থিক সুযোগ-সুবিধাসহ অনুশীলনের পর্যাপ্ত ক্ষেত্র দিতে হবে। যেন তারা আরও ভালো করতে পারে।

এবারের গেমসের মশাল বহকদের একজন আপনি। একটু অনুভূতির কথা যদি বলতেন...

বাকী: এটা বরাবরই গর্বের। যখন শুনলান এরকম একটা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে আমাকে, তখন খুবই ভালো লেগেছে। এর আগে কমনওয়েলথ গেমসের কুইন্স ব্যাটনে র‌্যালিতে পরপর তিনবার থাকার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। যুব গেমস দিয়ে আমার মোট চারবার এরকম অভিজ্ঞতা হলো।

এবার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসি। কোমরের ইনজুরির কারণে অনেক দিন তো শুটিংয়ের বাইরে ছিলেন। এখন কী অবস্থা?

বাকী: সত্যি কথা বলতে এখনো ওভাবে শুরু (অনুশীলন) করতে পারিনি। আগামী মাসের শুরুতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এই আসরের জন্য কয়েক দিন হলো অনুশীলনে যাচ্ছি। ১০ মিটারে অংশ নিতে পারব কি-না এখনো নিশ্চিত নই। কয়েক দিন অনুশীলন করলে বোঝা যাবে। ৫০ মিটার যেহেতু ২০ শট করে, তাই এখানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এমনিতে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসটা কেমন?

বাকী: দেখুন, আমি যদি ইনজুরির কারণে দাঁড়িয়ে শুটিংই না করতে পারি, তাহলে আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা থাকে না। আত্মবিশ্বাস খোঁজারও রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আমার বেলায় পরিস্থিতিটা এখন তেমনই। আপাতত ৫০ মিটারে চেষ্টা করে যাচ্ছি আগের জায়গায় ফিরে আসার জন্য।

ডাক্তার কী বলছেন?

বাকী: ইনজুরির অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। আগে যেমন হাঁটতে বা নড়াচড়া করতেও কষ্ট হতো। এখন আর ও রকম হয় না। এখন শুধু প্র্যাকটিসের সময় কষ্ট হয়। ডাক্তার যখন ট্রিটমেন্ট করলো তখন চার মাসের কথা বলেছিল। এর মধ্যে তিন মাস শেষ।

এই ইনজুরিটা কীভাবে হলো?

বাকী: প্রথম ইনজুরি হয় জিম করতে গিয়ে। পরে ১০-১২ দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। এরপর প্র্যাকটিসের হঠাৎ করেই ইনজুরিটা মাথাচাড়া দেয়।

এই চোটের জন্য তো বেশকিছু আন্তর্জাতিক গেমস খেলা হলো না। এ বছর এশিয়ান গেমস আছে। এ নিয়ে কী ভাবছেন?

বাকী: আমি হয়তো আর এক-দেড় মাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে যাব আশা করি। এশিয়ান গেমস সেপ্টেম্বরে। তাই আশা করছি তার আগে পুরোদমে শুটিং করতে পারব।

২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক শুটিং শুরু আপনার। প্রায় ১৫ বছর কাটল। কতদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান?

বাকী: সত্যি বলতে শুটিং আমি ভালো লাগা থেকে খেলি। ভালোবাসার জায়গা থেকে যতদিন ভালো লাগবে, ততদিন খেলে যাব।

ক্যারিয়ারে তো অনেক প্রাপ্তি। দু-দুবার কমনওয়েলথ গেমসে ব্যক্তিগত রুপা জিতেছেন। কিন্তু এসএ গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণ জিততে না পারা কি পোড়ায়?

বাকী: শুধু এসএ গেমস না, কমনওয়েলথ গেমসটাও পীড়া দেয়। কাছাকাছি গিয়েও না পারা সব সময়ই একজন খেলোয়াড়ের জন্য কষ্টের। ২০১৯ সালের এসএ গেমসে তো একটা সময় পর্যন্ত আমিই প্রথম ছিলাম। তার ঠিক আগের বছর গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসেও ফাইনাল শটের আগ পর্যন্ত কনফার্ম ছিল, আমিই গোল্ড পাচ্ছি। অবশ্যই এসব মাঝেমধ্যে পীড়া দেয়।

 এই আক্ষেপ মেটানোর ইচ্ছেও নিশ্চয়ই জাগে তখন?

বাকী: আসলে শুটিংটা আক্ষেপ বা আসফোসের জায়গা নয়। এখানে সত্যি সত্যিই যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে সবকিছু। প্র্যাকটিসের পারফরম্যান্স এবং নির্দিষ্ট দিনটায় আমি কী করলামÑএটা খুব জরুরি। এই দুটি জিনিস মেলাতে পারলেই হয়ে যায়। যদি না মেলে তাহলে তো কিছু করার নেই।

শেষ প্রশ্ন, বাকী নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কতটা খুশি?

বাকী: (হেসে) খুশি, পুরোপুরিই খুশি। আমি খুশি এ কারণে যে, আমার জায়গা থেকে অ্যাফোর্টটা আমি সবসময় দিতে পেরেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত