দক্ষিণ আফ্রিকার সড়কে ৫ বাংলাদেশি নিহত

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৫২ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে দেশটির জোহানেসবার্গ থেকে কেপটাউনে যাওয়ার পথে বাফেলো এলাকায় মালবোঝাই লরির সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়।

এদিকে পবিত্র ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহতরা হলেন ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বিরলী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩৮), দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের রাজু আহমেদ (৩৪), একই উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মমারিজপুর গ্রামের মো. মোস্তফা (৪০), সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আবুল হোসেন (৪৫) ও তার ছেলে নাদিম হোসেন (১০)।

গুরুতর আহতরা হলেন বাংলাদেশগামী যাত্রী আনিসুল হক মিলন (৩৮) ও নাহিদ আহমেদ (৩৫)। আনিসুলের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞায় এবং নাহিদের বাড়ি গোপালগঞ্জে।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া দুজন মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানান। ফেনী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন একজন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমএ হোসেন জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার মজলিশপুর গ্রামে দুজন মারা গেছেন তিনি জেনেছেন।

নিহত ইসমাইল হোসেনের বাবা শরীয়ত উল্লাহ বলেন, আগামী দুই মাস পর ছেলের দেশে এসে বিয়ে করার কথা। সে ১১ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকে। ছেলেকে হারিয়েছি তবে লাশটি দ্রুত ফেরত চাই।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী শওকত বিন আশরাফ বলেন, গতকাল সকাল ৯টার দিকে আনিসুল হক নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেওয়ার পথে কেপটাউনের বাফেলো নামক জায়গায় মালবোঝাই এক লরির সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়। আহত হয় বাংলাদেশগামী যাত্রী আনিসুল হকসহ অন্য বাংলাদেশি।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার খোঁজখবর রাখছেন।

ওমরাহ করতে গিয়ে সড়কে ২ জন নিহত : পবিত্র ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দা-মদিনা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধারচর পূর্বপাড়া গ্রামের আবদুল মালেক মেম্বার (৭৪) ও তার ভাগিনা শাকিল আহমেদের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (২০)।

আর আহতরা হলেন মালেক মেম্বারের ছেলে জেদ্দা বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা শাখার পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, তার স্ত্রী, মেয়ে, ভাগিনা শাকিল আহমেদ ও শ্যালক। তারা বর্তমানে মদিনার স্থানীয় ওয়াদি ফারাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সাধারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোরশেদ আহমেদ জানান, মালেক মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। গত বুধবার তিনি বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যান। সেখান থেকে ছেলে তার গাড়িতে করে পরিবারসহ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে জেদ্দা থেকে মদিনা যাচ্ছিলেন। পরে জেদ্দা-মদিনা সড়কে তাদের গাড়ির সঙ্গে  আরেকটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মালেক মেম্বার ও ভাগিনার স্ত্রী তাসলিমা মারা যান। বাকিরাও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, দুজনের মরদেহ দেশে আনা হবে, নাকি ওখানেই দাফন করা হবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবারের সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে মরদেহের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনটি নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা এবং নরসিংদী ও ফেনী প্রতিনিধির তথ্যে তৈরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত