বিএনপির জেলা পর্যায়ে যুগপৎ পদযাত্রা আজ

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৫৫ এএম

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপি ও সমমনা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎভাবে আজ শনিবার ঢাকা জেলা বাদে বাকি জেলাগুলোতে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে।

আগামী ৪ মার্চ সারা দেশে থানায় থানায় যুগপৎভাবে এ পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর ট্র্যাজেডি উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ কারণে ঢাকা জেলার পদযাত্রা রবিবারে হবে। 

বিএনপি নেতারা বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের পদযাত্রার মাধ্যমে জেলা কমিটিগুলোর পুনর্গঠনের কাজ কতটা সফল হয়েছে তার যাচাই হয়ে যাবে। সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক জেলা ৬৭টি।’

গতকাল বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল এতে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির সমর্থনপুষ্ট তিন জোটে রয়েছে ৩০টি রাজনৈতিক দল। নাগরিক ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ সাতটি দল নিয়ে গঠিত হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। বিএনপির নেতৃত্বধীন ২০-দলীয় জোট ভেঙে হয়েছে ১২-দলীয় জোট। আর জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে শামিল হয়েছে ১১টি রাজনৈতিক দল। এই তিন জোটের বাইরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কর্মসূচি সফল করতে কয়েক দিন ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা এবং এর অধীনে থাকা ইউনিটগুলোর নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা। পদযাত্রা সফল করতে কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাঠানো হচ্ছে তৃণমূলে। তারা পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন। কেন্দ্রীয় অন্য নেতারা নিজ নিজ জেলার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। আর বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজ নিজ বিভাগের কর্মসূচি সমন্বয় করবেন।’ 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা জেলার পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মানিকগঞ্জে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গাজীপুরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নারায়ণগঞ্জে ড. আব্দুল মঈন খান, টাঙ্গাইলে অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, মুন্সীগঞ্জে অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ; কুমিল্লা দক্ষিণে বরকতউল্লা বুলু, কুমিল্লা উত্তরে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, চাঁদপুরে ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোস্তাক মিয়া; ময়মনসিংহ দক্ষিণে নজরুল ইসলাম খান, জামালপুরে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নেত্রকোনায় অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, ময়মনসিংহ উত্তরে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও শেরপুরে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল; চট্টগ্রাম উত্তরে আব্দুল্লাহ আল নোমান, বান্দরবানে শামসুজ্জমান দুদু, চট্টগ্রাম দক্ষিণে আবুল খায়ের ভূঁইয়া, নোয়াখালীতে মো. শাহজাহান, ফেনীতে ভিপি জয়নাল, রাঙ্গামাটিতে মাহবুবের রহমান শামীম, খাগড়াছড়িতে মীর মো. নাছির উদ্দিন, লক্ষ্মীপুরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও কক্সবাজারে লুৎফর রহমান কাজল; বরগুনায় এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরিশাল উত্তরে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বরিশাল দক্ষিণে মজিবুর রহমান সরোয়ার, পিরোজপুরে বিলকিস জাহান শিরিন, পটুয়াখালীতে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ভোলায় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ঝালকাঠিতে ডা. রফিকুল ইসলাম; নওগাঁয় মিজানুর রহমান মিনু, পাবনায় অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, বগুড়ায় আবদুস সালাম, রাজশাহীতে হারুন-অর-রশিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিফ, নাটোরে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জয়পুরহাটে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সিরাজগঞ্জে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন; ঠাকুরগাঁওয়ে আমান উল্লাহ আমান, দিনাজপুরে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, গাইবান্ধায় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, রংপুরে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, লালমনিরহাটে আসাদুল হাবিব দুলু, কুড়িগ্রামে শামসুজ্জোহা খান, সৈয়দপুরে আনিসুজ্জামান বাবু ও নীলফামারীতে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা; রাজবাড়ীতে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম, ফরিদপুরে শামা ওবায়েদ ও মাদারীপুরে জহুরুল ইসলাম শাহজাদা মিয়া; মাগুরায় অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, যশোরে জয়নুল আবদীন ফারুক, নড়াইলে ড. মামুন আহমেদ, মেহেরপুরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কুষ্টিয়ায় অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, খুলনায় আজিজুল বারী হেলাল, সাতক্ষীরায় রাশেদা বেগম হীরা, বাগেরহাটে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঝিনাইদহে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ও চুয়াডাঙ্গায় সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া; হবিগঞ্জে আরিফুল হক চৌধুরী, মৌলভীবাজারে ড. এনামুল হক, সিলেটে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং সুনামগঞ্জে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। আরও দুটি সাংগঠনিক জেলায়ও পদযাত্রা হবে। তবে সেসব জায়গায় কেন্দ্রীয় নেতারা যাবেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত