চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) হলের কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ভাঙচুর করা হয় অন্তত ১০টি কক্ষ।
সংঘর্ষে চবি ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক নয়ন মোদক আহত হয়েছেন। তিনি চবির চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও হাটহাজারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ প্রসঙ্গে হাটহাজারী থানার ওসি রুহুল আমিন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুপক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে আলাওল হলের ৪৪২ নম্বর কক্ষ দখল নিয়ে বিজয় গ্রুপের বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছিলেন। গতকালও এই গ্রুপটির দুটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ‘বিজয়’ গ্রুপটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত বছর ৩১ জুলাই কমিটিতে পদ পাওয়া নিয়ে বিজয় গ্রুপটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আলাওল এবং এএফ রহমান হলের নেতাকর্মীরা মিলে একটি পক্ষ। আরেকটি পক্ষের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলে থাকেন। সোহরাওয়ার্দী হলে নেতৃত্বে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম।
আরেকটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ। এখনো এএফ রহমান ও আলাওল হলের বেশ কয়েকটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ আছে নজরুল ইসলামের অনুসারীদের হাতে।
গতকালের সংঘর্ষের বিষয়ে চবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ সাংবাদিকদের বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি রাতের সংঘর্ষের জের ধরে আজ (গতকাল) সোহরাওয়ার্দী হলের এক কর্মী আলাওল হলের মাঠে খেলতে গেলে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে।’
