বেলুন নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৪২ পিএম

বেলুনকে কেন্দ্র করে বাগ্যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, উড়ন্ত বস্তুগুলো চীনের নজরদারি বেলুন। ভূপাতিত বেলুনগুলো থেকে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া না গেলেও চীনকে দোষারোপ জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া           

চীনের দিকে আঙুল

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে সম্প্রতি ওড়া বেলুন ও অজ্ঞাত বস্তু নিয়ে বিভ্রান্ত ওয়াশিংটন। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি গুলি করে ভূপাতিতও করা হয়েছে। দেশটির আকাশসীমায় এসব বেলুন বা বস্তু পাঠানোর উদ্দেশ্য কী? উড়ন্ত বস্তুগুলো কোথা থেকে এসেছে? কার নির্দেশে? যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য চাক শুমার বলেছেন, উড়ন্ত বস্তুগুলোর সবই বেলুন, অন্য কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভিযোগ, উড়ন্ত বস্তুগুলো চীন থেকে এসেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ হ্রদ লেক হিউরনের ওপর ষড়ভুজ আকৃতির একটি বেলুন উড়তে দেখা যায়। সেটিও ভূপাতিত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বেলুন আগেরগুলোর মতোই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় মন্টানা অঙ্গরাজ্য অতিক্রম করছিল। ওই রাজ্যে মামস্ট্রম এয়ার ফোর্স বেজ নামে একটি বিমান ঘাঁটি আছে যেখানে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা মাটির নিচে সংরক্ষিত। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি জায়গায় আছে, একটি নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের মাইনট শহরে আর অন্যটি ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যে এক বিমান ঘাঁটিতে। প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ঘাঁটি ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা নজরদারি করতে চীন এত মরিয়া কেন? এর জবাবে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হয় চীন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রাগারে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে অথবা তাইওয়ানসহ চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন যাতে মাথা না গলায়, এজন্য গোয়েন্দা বেলুন পাঠিয়ে হুমকি দিতে চাইছে বেইজিং; আবার দুটোই হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও উন্নত প্রযুক্তির আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার অধিকারী চীন। এগুলোর বেশির ভাগই সলিড রকেট যেগুলো যেকোনো সময় দ্রুত ছোড়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের ওপর নির্ভরশীল। এই দুটির কোনোটাই ফার্স্ট স্ট্রাইক সিস্টেম নয়। অন্যদিকে চীনের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা রেললাইন বা মহাসড়কে আঘাত হানতে সক্ষম। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান নির্ণয় করা বা ধ্বংস করা সহজ নয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড সীমিতকরণের বিষয়ে রাজি হয়েছিল। চীন এসব বিষয়ে শুরু থেকেই স্বাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো তাকে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে অস্ত্র সীমিতকরণের চুক্তি করতে হয়নি। এ কারণে সে ইচ্ছেমতো তার কৌশলগত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াতে পেরেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।                                                  

উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

বেলুন সম্পর্কে মার্কিন সাংবাদিক ডেভিড ইগনেশিয়াস বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ওয়াশিংটনে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। রিপাবলিকানদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় বেলুন প্রবেশের অনুমতি দিয়ে দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন সরকার বলছে, রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে একই ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা কয়েকবার ঘটলেও সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবশ্য ট্রাম্পের সময় এ ধরনের ঘটনা এবারের মতো এত দীর্ঘ সময় ধরে হয়নি বা দেশটির ভূ-খণ্ডের এত ভেতরে উড়ন্ত বস্তু ঢোকেনি।’       

৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের চীন সফর করার কথা ছিল। কিন্তু ২৮ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী সময়ে কানাডার পশ্চিমাঞ্চল, আলাস্কাসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বেলুন দেখা যাওয়ায় চীন সফর বাতিল করেন ব্লিঙ্কেন। ৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশে সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর উড়তে থাকা বেলুন প্রথম ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগ আনে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের অভিযোগ, যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে উদ্বেগজনক উপকরণ সরবরাহ করছে চীন। ৮ ফেব্রুয়ারি চীন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশটির মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম এমন এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে তাইওয়ান। চীনের ওই প্রতিবেশী দেশকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন মনে করছে, নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে তাকে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে পার্ল হারবারে হঠাৎ হামলা চালায় জাপান। এরপর ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। যুক্তরাষ্ট্র পার্ল হারবার বা টুইন টাওয়ারের পুনরাবৃত্তি চায় না। এ কারণে বেলুন নিয়ে দেশটি স্বভাবতই উদ্বিগ্ন।

সমরনীতিতে বলা আছে, কোনো দেশ যদি তার শত্রু দেশে হামলা করতে চায়, তাহলে তা শত্রু দেশকে বুঝতে দেওয়া যাবে না। শত্রুকে সবসময় বিশ্বাস করাতে হবে, হামলার কোনো চিন্তাই নেই আর যখন আসলেই হামলার কোনো পরিকল্পনা বা অবস্থা নেই, তখন শত্রু যেন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, যেকোনো সময় হামলা হতে পারে। এসব নীতি যুক্তরাষ্ট্র বেশ ভালোভাবেই জানে। এ কারণে তার অস্বস্তিও যাচ্ছে না। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব চীন চ্যালেঞ্জ করে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। বিশেষ করে গত বছর রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর মার্কিন আধিপত্য খর্ব করার বড় সুযোগ চীনের হাতে আসে। রাশিয়া, ইরান, সৌদি আরব, তুরস্কসহ শক্তিশালী আরও দেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জোট গড়তে চাইছে চীন। তার ওপর দেশটির নেতৃত্বে এখন যারা আছেন, তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় বেড়ে ওঠেন। তাদের পূর্বসূরিরা অবশ্য ছিলেন জাপানবিরোধী এবং মার্কিনপন্থি।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বেলুন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তাপ সংশ্লিষ্ট দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য দেশেও গিয়ে পৌঁছেছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি জার্মানির মিউনিখ শহরে নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন ও চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই। সেখানে ব্লিঙ্কেন চীনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বের কোনো ধরনের লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ যেন আর না হয়।’ অন্যদিকে বেলুনকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের বানানো রাজনৈতিক প্রহসন হিসেবে অভিহিত করেন চীনা কূটনীতিক ওয়াং ই। চীনকে দমনের জন্য যা করা সম্ভব, তার সবই মার্কিন প্রশাসন করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। উত্তর আমেরিকার আকাশে দেখা যাওয়া বেলুনের সবগুলো চীনের বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও তার দাবি শুরু থেকেই নাকচ করে যাচ্ছে পেইচিং। জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বেলুনকাণ্ডের প্রভাব কতদূর যাবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাদের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নানা কারণে এমনিতেই অনেক নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা দেশ দুটির মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়াবে। ওয়াশিংটন ও পেইচিংয়ের পক্ষে দূরত্ব কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে চীনের গুপ্তচরবৃত্তির পরিধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য দেশের সরকারও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তারা সামরিক ও প্রযুক্তির দিক থেকে শক্তিশালী দেশটির নজরদারির ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চলতি মাসে চীনের সামরিক বেলুনগুলো পাঁচটি মহাদেশের ৪০টির বেশি দেশের ওপর দিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ জাপান সম্প্রতি বলেছে, উত্তর আমেরিকায় বেলুন দেখতে পাওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা তাদের দেশের ওপর অতীতে বিভিন্ন সময়ে যেসব অজ্ঞাত বস্তু উড়তে দেখেছিল, সেসব ঘটনা পুনরায় বিশ্লেষণ করেছে। তাদের সন্দেহ, ২০১৯ সাল থেকে জাপানের ওপর দিয়ে কমপক্ষে তিনটি গোয়েন্দা বেলুন উড়িয়েছিল চীন। এছাড়া নাম প্রকাশ না করে তাইওয়ানের একাধিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, চীনের বেশ কয়েকটি সামরিক বেলুন দ্বীপটিতে বিভিন্ন সময়ে ওড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, চীনের শুধুমাত্র আবহাওয়া বেলুন সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল। এর বাইরে চীনের গোয়েন্দা বেলুন তাদের আকাশসীমায় দেখা যায়নি। তবে আকাশে কোনো ধরনের সন্দেহজনক সামরিক বস্তু উড়তে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করতে তারা দ্বিধা করবে না। গোয়েন্দা বেলুন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযোগ সামরিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে সঠিক মনে করছেন। চীনের নজরদারির ক্ষমতা এতদিন যে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, তা তারা স্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ড্রু টমসন বলেন, ‘চীন মনে করছে, ক্ষমতা প্রদর্শন, নজরদারি পরিচালনা ও যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করা এসব কর্মকাণ্ড বাড়াতে তারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে তারা যেকোনো সময় যেকোনো অভিযান পরিচালনা করে ওই কর্মকাণ্ডের ন্যায্যতা দিয়ে যাবে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো পরোয়া করছে না চীন। নিজেদের ভাবমূর্তি নিয়েও তারা খুব একটা চিন্তিত নয়।’ এদিকে বেলুন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্টো মার্কিন প্রশাসনকে দায়ী করে বলেছে, গত বছরের শুরু থেকে চীনের আকাশসীমায় উচ্চ উচ্চতায় ১০ বারের বেশি বেলুন ওড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিক বলে মনে করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ‘গত বছর থেকে চীনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রশাসন আমাদের আকাশসীমায় উচ্চ উচ্চতায় একের পর এক বেলুন ওড়ায়।’ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র অ্যাড্রিয়েন ওয়াটসন বলেন, ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়নার ওপর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নজরদারি বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ মিথ্যা। বরং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য উচ্চ উচ্চতার নজরদারি বেলুন কর্মসূচি চীনের আছে, আমাদের নেই।’

‘গোয়েন্দা’ বেলুন?

৪ ফেব্রুয়ারি গোয়েন্দা বেলুন সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের গুলি করার বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র  ওয়েনবিন বলেন, ‘ওই বেলুন আমাদের আবহাওয়া বেলুনের একটি, যা ভুলপথে চলে গিয়েছিল। বাকি বেলুন সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। তবে আমরা বলতে চাই, অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।’বেলুন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল গ্লেন ভ্যানহার্ক বলেন, ‘উড়ন্ত বস্তু থেকে আমরা হুমকির কোনো ইঙ্গিত পাইনি। ওগুলো গ্যাসে ভরা বেলুন হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবারই প্রথম নয়। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালে এ ধরনের অজ্ঞাত বস্তু তিনবার আমাদের আকাশসীমায় চলে এসেছিল।’ কবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে ওইসব বেলুন দেখা গিয়েছিল, এ নিয়ে বিস্তারিত তিনি কিছু বলেননি। তবে তিনি জানান, অতীতের বেলুনগুলো অল্প সময় আকাশে ছিল। এবারের মতো এক সপ্তাহ সময় ধরে ছিল না। এদিকে জেনারেল ভ্যানহার্কের বক্তব্যের সমালোচনা করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার আমলে চীনা বেলুন অনুপ্রবেশের তথ্যকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার বলেন, ‘আমার অফিসে এসে সে সময় কেউ আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনা নজরদারি বেলুনের বিষয়ে বলেছিল, এমনটা আমার মনে পড়ছে না।’   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত