চবিতে হল থেকে অস্ত্র উদ্ধার

মামলা-সমঝোতা হয়নি ক্যাম্পাস থমথমে

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫৪ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সোহরাওয়ার্দী ও আলাওল হল থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা বা কোনো সমঝোতা হয়নি। ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে হল দুটিতে এক ঘণ্টা অভিযানে ৬টি রামদা, রড ও লাঠিসোঁটা উদ্ধার করে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি।

জানতে চাইলে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিত্যক্ত অবস্থায় হল থেকে ধারালো অস্ত্র, রড ও লাঠিসোঁটা উদ্ধার হয়েছে। কেউ আটক হয়নি। তাই মামলা হয়নি।’ একই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর রবিউল হোসেন ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে হলের কক্ষ দখল নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের পর গতকালও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে।

গতকাল বিকেলে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, সোহরাওয়ার্দী, আলাওল ও এফ রহমান হলের সামনে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে দুই প্লাটুন পুলিশ। এ সময় চবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হল দুটির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তবে হাটহাজারী থানার দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হলের কক্ষ দখল নিয়ে তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফা সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে গতকাল বিকেল পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। চবি প্রশাসনও থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি।

এদিকে সংঘর্ষের জন্য এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দায়ী করছে। চবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ তার প্রতিপক্ষের ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আলাওল ও এ এফ রহমান হলে থাকা তার কর্মীদের ডেকে সোহরাওয়ার্দী হলের ছাত্ররা একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন। জুনিয়র ছাত্রদের আটকে রেখে র‌্যাগ দিয়েছেন, সেøজিং করছেন। তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ইলিয়াছের অভিযোগ ভিত্তিহীন, বানোয়াট বলে মন্তব্য করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হলের কক্ষ দখল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে সংঘর্ষে জড়ান শাখা ছাত্রলীগের ‘বিজয়’ গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের উপ আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক নয়ন মোদক আহত হন। জানা গেছে, গত বছরের ৩১ জুলাই কমিটিতে পদ পাওয়া নিয়ে বিজয় গ্রুপ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত