পিলখানায় নিহতদের স্মরণ

নেপথ্যের কুশীলব কারা জানতে চান স্বজনরা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫৮ এএম

পিলখানায় নিহতদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে তাদের স্বজনরা প্রতি বছর বনানীর সামরিক কবরস্থানে ফুল নিয়ে হাজির হন। কারও স্বামী, কারও বাবা, কারও সন্তান অথবা জাতির মেধাবী সন্তানরা শুয়ে আছেন এখানে। স্বজনদের আক্ষেপ, বিচারের রায় কবে কার্যকর হবে? এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী, নেপথ্যের কুশীলব কারা আছে তারা তা জানতে চায়। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এমন আক্ষেপ তুলে ধরেন স্বজনহারা কয়েকজন।

নিহত মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ বিচার সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি বিচার পাব না। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচার হবে না, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচার সম্ভব না। কেন এই রকম আশঙ্কা করছেন প্রশ্ন করা হলে রাকিন বলেন, কিছু মানুষের লজ্জা নেই। মানুষের তো লজ্জা থাকে। একসঙ্গে মা ও বাবাকে হারানো রাকিন বলেন, আপনারা সত্য প্রচার করতে পারবেন না, বলে লাভ নেই। অযথা সময় নষ্ট করছেন। আমি যা বলব, তা প্রচার করতে পারবেন না।

নিহত কর্নেল কুদরত ইলাহী রহমানের ছেলে অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান বলেন, কোনো একটা জুডিশিয়ারি ইনকোয়ারি কমিশন গঠন করা হোক আন্ডার রিটায়ার্ড সুপ্রিম কোর্ট জাস্টিস। যেই জুডিশিয়ারি ইনকোয়ারি কমিশনটা এটা তদন্ত করে দেখবে যে, পর্দার আড়ালে কী ছিল? সেটা যদি না হয়, তাহলে কিন্তু ইভেনচুয়ালি যদি ফাঁসিও হয়ে যায়, তাহলেই বা কী? এটা তো স্বাভাবিকÑযে কোনো অপরাধীর তো ফাঁসি হবে। এটাতে খুশি হওয়ার কিছু নেই। পর্দার আড়ালে যারা রয়ে গেল, তাদের কিন্তু আমরা খুঁজে পেলাম না।

কুদরতের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি ৮৭ বছর বয়সে এই যন্ত্রণা বুকে নিয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু কুদরতের মা তিন বছরের বেশি আর বাঁচতে পারেনি। বিচার কবে হবে জানি না। জানি না জীবদ্দশায় দেখতে পাব কি না।’

মেজর মোহাম্মদ মাকসুম-উল হাকিমের শ্বশুর বলেন, ‘সরকার ডাকে আমরা আসি। শোকসভা করে চলে যাই। ডেথ রেফারেন্স যে আটকে আছে, এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ হলে আমরা রায়টা দেখতে পারব। সেই প্রতীক্ষায় দিন গুনছি।’

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ্য : দিনের শুরুতে সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সেনাবাহিনী প্রধান  জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আব্দুল হান্নান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হক নূরু, নৈতিক সমাজের চেয়ারম্যান আ ম সা আমিন ফুল দেন স্মৃতিস্তম্ভে। রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে প্রয়াত সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে, বিজিবি যথাযোগ্য মর্যাদায় শাহাদাতবার্ষিকী পালন করেছে। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী বাদ ফজর থেকে জোহরের নামাজের আগ পর্যন্ত শহীদদের রুহের মাগফেরাতের উদ্দেশ্যে পিলখানার বিজিবি সদর দপ্তরসহ সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিটের মসজিদসমূহে খতমে কোরআন আয়োজন করা হয়। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিজিবির সব স্থাপনায় রেজিমেন্টাল পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং বিজিবির সব সদস্য কালো ব্যাজ পরিধান করেন। বাদ আসর বিজিবির কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রিত অতিথি, শহীদদের নিকটাত্মীয়, পিলখানায় কর্মরত সব অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবির সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত