সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চট্টগ্রাম নগরী ও কক্সবাজারকে মাদকপ্রবণ ঘোষণা করা হচ্ছে

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:০৭ এএম

চট্টগ্রাম মহানগর ও কক্সবাজার জেলাকে মাদকপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশের সব থেকে বড় এ রুটকে সরকার মাদকপ্রবণ অঞ্চল ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে রূপরেখা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, কমিটির আগের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে চট্টগ্রাম মহানগর ও কক্সবাজার জেলাকে মাদকপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করার বিষয়টি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ আসে। গতকালের বৈঠকে ওই সুপারিশের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সব বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হিসেবে বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময় করে চট্টগ্রাম মহানগর ও কক্সবাজার জেলাকে মাদকপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করার বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির আগের বৈঠকে (গত ১৫ জানুয়ারি) সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী প্রসঙ্গটি তোলেন। মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হলেও উৎপাদনকারী দেশগুলোর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ মাদকে আক্রান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ভারত থেকে হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে ঢুকছে। পরে তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে নিিদ্র সীমান্ত নিশ্চিতকরণ, স্যাটেলাইট ইমেজারি প্রযুক্তি স্থাপন এবং চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলাকে মাদকপ্রবণ অঞ্চল ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী ও বৈঠকে ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান মাদক ও অস্ত্র আটক, চোরাচালানে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততার বিপদের কথা বলেন।

বর্তমানে রোহিঙ্গা সমস্যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ডেটাবেজ তৈরি করা হয়। রোহিঙ্গা ডেটাবেজটি এনটিএমসিকে দেওয়া হলেও ২০১৮ সাল-পরবর্তী সময়ে তা হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে বর্তমানের ডেটাবেজ না থাকায় আইনপ্রয়োগকারী ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে না। এতে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার বিষয়টি আবারও উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মাদক পাচার ও কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যিনিই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে এখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, এখানে বাস করতে হলে আমাদের দেশের আইন মানতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় এমন কর্মকা- থেকে তাদের দূরে থাকতে হবে। এসব বন্ধ না করলে হয় তারা তাদের দেশে ফেরত যাবে, না হয় অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া কাটলেই গুলি চালায়। এখানে তারের বেড়া কাটলে আমাদেরও কঠোর হতে হবে। কক্সবাজার অঞ্চল মাদকপ্রবণ এলাকা বলেই এখানে সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।

কমিটির সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, মাদক পাচারের বিভিন্ন রুটের মধ্যে কক্সবাজার রুটেই বেশিরভাগ মাদক আসার কথা জানা যায়। বর্তমানে মাদক পাচার প্রায় তিনগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২০ সালে একশর বেশি তালিকাভুক্ত মাদক পাচারকারী আত্মসমর্পণ করেছিল। যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারা আবারও এ পাচার কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজার এলাকায় মাদক পাচার রোধে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বিশেষ ভাতার আওতায় আনার কথাও বলেন এ সদস্য।

পরে বৈঠকে কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমদ জিরো পয়েন্টে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাদক পাচারের বড় রুট হিসেবে এ পয়েন্টটি চিহ্নিত হয়েছে।

মাদক পাচারকারী, অবৈধ মাদক কারবারি, সব রোহিঙ্গা এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশিদের তালিকা তৈরির বিষয়ে অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে মাদক কারবারিদের একটি সমন্বিত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চলমান বলেও বৈঠকের অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিটির সদস্য নূর মোহাম্মদ একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের দেশের মাদকের (ইয়াবা) চালান মিয়ানমার থেকে ওইদিক দিয়ে আসে (চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার)। সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল। মাদকপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করা হলে গুরুত্ব পায়। তবে সেটা ঘোষণা হলে একটা অ্যাটেনশন হবে ওখানে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না। তাই বিষয়টি আলোচনার মধ্যে আছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত