দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করেছে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিদায়ী নূরুল হুদা কমিশনের চূড়ান্ত করে যাওয়া সীমানাই অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারও কোনো আপত্তি থাকলে আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে লিখিত আকারে জানাতে পারবেন। গতকাল রবিবার ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরে দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংবিধান ও জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জনসংখ্যার বাস্তব বিভাজনকে যতদূর সম্ভব বিবেচনায় রেখে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ইসি একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করছে এবং তালিকাটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে লিখিত দাবি/আপত্তি/সুপারিশ/মতামত আহ্বান করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ২০১৮ সালে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটাই অক্ষুন্ন রয়েছে। শুধু প্রশাসনিক কারণে নামের পরিবর্তন হয়েছে অথবা প্রশাসনিক বিভক্তি যেগুলো হয়েছে, সেগুলো পুরনো নাম বাদ দিয়ে নতুন নাম দিয়ে করা হয়েছে। কোনো পরিবর্তন নেই। সম্ভবত পাঁচ-ছয়টা এ ধরনের হতে পারে। কমিশন অনুমোদন করেছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে আরও বছরখানেক সময় লাগবে বলে জানান এ কমিশনার। তিনি বলেন, ‘কিন্তু ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন করতে হবে। তাই আমরা অপেক্ষা তো করতে পারছি না। তারা খসড়া যেটা দিয়েছে সেটা আমলে নিয়েছি। তবে প্রশাসনিক অখণ্ডতা এবং ভৌগোলিক বিষয়টাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।
মো. আলমগীর বলেন, ‘সীমানার বিষয়টি প্রকাশ করার পর যদি জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যা মনে করেন, ২০ দিন সময় দেব, তারা আবেদন করতে পারবেন। প্রত্যেকটি আবেদনই আমরা শুনানি করব। তাদের বক্তব্য যদি সঠিক হয়, কেউ যদি বিরোধিতা না করেন এবং আমাদের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে তাদের বক্তব্য যৌক্তিক, তখন হয়তো আমরা পরিবর্তন আনতে পারি। এ ছাড়া কোনো পরিবর্তন হবে না।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে একটা উপজেলা ছিল, এখন দুটো উপজেলা হয়েছে, এমন ক্ষেত্রে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর কোনো পরিবর্তন আনেননি। দেশের যে জনসংখ্যা এতে গড়ে প্রতি আসনে ৫ লাখ ৫০ হাজার ভোটার জানিয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘জনসংখ্যার হিসেবে যদি আসনের সীমানা করি তাহলে দেখা যাবে যেকোনো কোনো জেলায় একটা আসন হবে। আবার কোনো কোনো জেলা থেকে আসন কেটে এনে অন্য জেলায় দিতে হবে। যেমন ঢাকায় যদি ৫ লাখ ৫০ হাজারের ভিত্তিতে দিই, তাহলে আরও ১০টা আসন বাড়াতে হবে। গাজীপুরে পাঁচটি, চট্টগ্রামে দুটি, খুলনায় মনে হয় দুটি বাড়াতে হয়, রাজশাহীতে বাড়াতে হয়। এভাবে যদি সব শহরে চলে আসে আসন, তাহলে অন্য জেলা তো আসন হারাবে। এ জন্যই প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আইনেও তাই বলা হয়েছে।
যে পদ্ধতিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ : বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে সেগুলো হলো প্রতিটি জেলার ২০১৮ সালে নির্ধারিত মোট আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা, প্রশাসনিক ইউনিট বিশেষ করে উপজেলা এবং সিটি করপোরেশন ওয়ার্ডের যথাসম্ভব অখণ্ডতা বজায় রাখা, ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌর এলাকার ওয়ার্ড একাধিক সংসদীয় আসনে বিভাজন না করা; যেসব নতুন প্রশাসনিক এলাকা সৃষ্টি হয়েছে বা সম্প্রসারণ হয়েছে বা বিলুপ্ত হয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও যোগাযোগব্যবস্থা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো সংক্ষুব্ধ বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে তার পুনর্নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত দাবি/আপত্তি/সুপারিশ/মতামত জানাতে পারবেন। এ সংক্রান্ত দরখাস্ত ৫ (পাঁচ) প্রস্থ দাখিল করতে হবে।
