আগামী জুন মাস থেকে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আনুষ্ঠানিকভাবে সরবরাহ করতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট। ৬৬০ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে আছে দুটি ইউনিট। এর আগে এপ্রিল মাস থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট চালু হবে। এ ইউনিটে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ৬৬০ মেগাওয়াট। জুন মাস থেকে দুটি ইউনিট পুরোদমে অপারেশনে যাবে। এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুচ সামাদ লাবু এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের সুপারক্রিটিক্যাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের ভৌত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বেসরকারি খাতে বাংলাদেশে এটিই কয়লাভিত্তিক বৃহত্তম বিদুৎকেন্দ্র। এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ডেপুটি ম্যানেজার (মেকানিক্যাল) রশিদ উল হাসান জানান, ৬৬০ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে এ বিদ্যুৎ প্রকল্প। বর্তমানে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত হাজার শ্রমিক কাজ করে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উপাদন ক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট। আগামী জুন মাস থেকে দুটি ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি চলে যাবে জাতীয় গ্রিডে। প্রতিদিন কয়লা লাগবে ১৪ হাজার টন।
এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুচ সামাদ লাবু বলেন, ‘এটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হলেও সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কারণে পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনা নেই। এই প্রযুক্তিতে কম কয়লা পুড়িয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।’ এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রাইভেট সেক্টরে পরিবেশবান্ধব সবচেয়ে বড় প্ল্যান্ট। আগামী মার্চের শেষের দিকে কয়লা আসবে। ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রথম চালানে ২০ হাজার টন এবং পরের চালানে দুই লাখ টন কয়লা আসবে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে তাদের ১৫ বছরে চার লাখ টন কয়লা আমদানির চুক্তি আছে। আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম কমলে বিদ্যুতের দাম কমবে। বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে।
এর আগে ১৪ জানুয়ারি ১৩২০ মেগাওয়াট এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হয়। এরপর থেকে মূল উৎপাদনে যেতে শুরু হয় কমিশনিং। বঙ্গোপসাগরের কূলঘেঁষে বাঁশখালীর গ-ামারা এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এস আলম গ্রুপ ও চীনের সেপকো থ্রির যৌথ মালিকানাধীন। গত ১৪ জানুয়ারি বিদুুৎকেন্দ্রটিকে জাতীয় গ্রিডের ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করা হয়।
এদিকে গতকাল রবিবার দুপুরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাঁশখালীর বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোদমে অপারেশনে গেলে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ৩০ হাজার মেগাওয়াট। আমাদের চাহিদা আছে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে দেশে আর বিদ্যুৎ সংকট হবে না।’
এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের ব্যাপার বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট বেসরকারি খাতে সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প। সব প্রকল্প এক নয়। কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এতে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আছে। বিদেশি ব্যাংক এ প্রকল্প দেখে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এটা এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের বিরাট সাফল্য।’
