মিরপুরের ফটকে-গ্যালারিতে ছিল শূন্যতা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩, ০৮:২২ পিএম

হোসেন শোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামের ফটক পার হতেই মূলত ভিড় শুরু হয়। পাশে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রবেশের পঞ্চম ফটক। বাংলাদেশের বা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের খেলা মানেই দর্শকদের ভিড় পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু আজ সেখানে ব্যতিক্রমী চিত্র। নেই দর্শকদের কোলাহল।

ক্রিকেটের কুলিন দেশ ইংল্যান্ড খেলতে এসেছে বাংলাদেশে। আজ বুধবার ইংল্যান্ডের সঙ্গে স্বাগতিকদের প্রথম ম্যাচ ছিল। অথচ স্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে দেখা গেল ভিড় নেই। ফুটপাতে বসে টি-শার্ট বিক্রেতারা, দাঁড়িয়ে পতাকা আর টুপির ফেরিওয়ালারা ক্রেতা টানার চেষ্টায় ব্যস্ত। কেউবা আবার গালে-হাতে ট্যাটু এঁকে দিতে চেষ্টা করছেন। বড় দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ অথচ তার উত্তাপ নেই যেন কোথাও।

মিরপুর স্টেডিয়ামের তিন নম্বর ফটকের সামনে সাধারণত দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু আজ সেখানেও প্রায় ফাঁকাই বলা যায়। এই জায়গাটায় টিকিট কালোবাজারিদের আনাগোনা বেশি থাকে। অন্যান্য দিনে কাউন্টারে টিকেট না পেলে এখানে এসেই টিকিটের জন্য দর কষাকষি করেন ক্রিকেট ভক্তরা। তবে আজ তাদেরকেও ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। টিকিট লাগবে কিনা জানতে চেয়ে মানুষের পেছনে পেছনে হাঁটছেন। কিন্তু আজ মনে হয় লোকসান ঠেকাতে পারবেন না তারা। স্টেডিয়ামে প্রবেশের সবগুলো ফটকেই ভিড় ছিল না বলা চলে।

ফটক পেরিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে গিয়ে দেখা গেল, গ্যালারি প্রায় ফাঁকা। দুপুর ১২ টায় শুরু হয়েছে খেলা। বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে টাইগাররা। বেলা ২টায় সেই ইনিংস গড়ায় অর্ধেকে। তবুও গ্যালারির প্রায় অর্ধাংশই ফাঁকা। তামিমরা যখন ব্যাটিং শেষ করে ফেলেছেন তখনও গ্যালারি খাঁ খাঁ করছিল দর্শক শূন্যতা।

বাইরে ভিড় না থাকা আর ভেতরে এমন শূন্যতা দেখে মনে প্রশ্ন জাগবে যে কারো, তবে কি দর্শক হারাচ্ছে মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম?

বাংলাদেশের ইনিংস শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে এক টঙ দোকানির সঙ্গে আলাপ জমালে তিনি বলেন, ‘এই ভর দুপুরে কে খেলা দেখতে আসে মামা। রোদে পুড়ে খেলা দেখার ইচ্ছে আমার অন্তত নেই। বেলা গড়ালে, রোদ একটু পড়লে না হয় খেলা দিতে পারত।’

দোকানির কথার সমর্থনেই যেন তখনও মাথার উপরে ফাল্গুনি দুপুরে চৈত্রের তাপ ছড়াচ্ছিল সূর্য। গায়ে রোদ লাগলে চামড়া ঝলসে যায়-এমন অবস্থা। যদিও খেলা পাগল মানুষের কাছে এসব সবসময় নস্যি। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপক্ষো করেও দর্শকরা থাকেন খেলা দেখার উন্মাদনায় মগ্ন।

চায়ের টঙে কথায় হয় কেতাদুরস্ত পোষাকের বয়স ত্রিশ-পয়ত্রিশের যুবকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজ ওয়ার্কিং ডে। সব অফিস খোলা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস আছে। এমন দিনে খেলা থাকলে দর্শক টানা কি সম্ভব! ছুটির দিনগুলোতে খেলা দিলে মানুষ আসবে। তবে ছুটির পরে মানুষ বাড়তে পারে।’

তার কথার সত্যতা মিলেছে বিকেল গড়াতেই। রোদের তেজ যত কমেছে, দর্শকের উপস্থিতিও একটু করে বেড়েছে। তবে গ্যালারি দর্শক পূর্ণতা পায়নি। প্রতিটি স্ট্যান্ডেই অনেক আসন ফাঁকা ছিল। কোথাও বেশিরভাগই ফাঁকা কোথাও কম।

মিরপুর স্টেডিয়ামের গ্যালারির এমন চিত্র শুধু আজকে তেমনি নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। হালের জনপ্রিয় বিপিএলেও প্রায় প্রতিটি ম্যাচে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে মিরপুর। যদিও ফাইনাল ম্যাচের কথা ভিন্ন। সে ম্যাচে দর্শকদের উন্মাদনা সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। এরকম দুই চারটি ম্যাচ বাদে গ্যালারীর চিত্র এমন মলিনই থাকে। অথচ চট্টগ্রাম ও সিলেটের স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মানেই দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। অথচ এসব স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেওয়া হয় কম। খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া ও ফতুল্লায়ও আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম ছিল। সেগুলোতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই দীর্ঘদিন। তাই যেসব স্টেডিয়ামে দর্শক সাড়া বেশি সেগুলোতে ম্যাচ বাড়ানো অথবা মিরপুরের আগের যৌবন ফিরিয়ে আনতে বিসিবির উদ্যোগী হওয়া জরুরি বলেই মত ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত