বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সহকর্মী মহিউদ্দিনসহ দুইজনের ফাঁসি বহাল

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৩, ০২:২০ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি রায় রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) চেয়ে করা আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবনের সাজা বহাল রইল।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আট বিচারকের আপিল বিভাগ রিভিউ খারিজের রায় দেয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন অধ্যাপক তাহেরের একসময়ের ছাত্র ও পরে একই বিভাগের শিক্ষক ড. মিয়া মো. মহিউদ্দিন ও নিহত অধ্যাপক তাহেরের বাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। যাবজ্জীবনের সাজা বহাল রয়েছে আবদুস সালাম ও নাজমুল আলমের।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন, দণ্ডের বিরুদ্ধে এই দুজনের আইনি লড়াই শেষ হলো। তাদের সামনে এখন শুধু দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার

আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এ আবেদন খারিজ হলে কারাবিধি অনুযায়ী দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কোনো বাধা থাকবে না।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রিভিউয়ের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ২ মার্চ (গতকাল) রায়ের জন্য ধার্য করে আপিল বিভাগ। আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।

মোর্শেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের মধ্যে সালাম রিভিউ আবেদন করেছিলেন। তার আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। ফলে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুজনকে দণ্ড ভোগ করতে হবে।

আপিল বিভাগের রিভিউ রায়ের সময় অধ্যাপক তাহেরের স্ত্রী সুলতানা আহমেদ, মেয়ে অ্যাডভোকেট সেগুফতা আহমেদ, তাদের পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যূথী ও শাকিলা রওশন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

হাইকোর্টে রায় থেকে খালাস চেয়ে আসামিদের আপিল ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের দণ্ড বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গত বছরের ৫ এপ্রিল খারিজ করে রায় দেয় আপিল বিভাগ। এতে মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। এ ছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত নাজমুল আলম ও আবদুস সালামের সাজাও বহাল থাকে। বিচারিক আদালতের রায়ে এ চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছিল। ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর একটি আদালত রায়ে চারজনকে ফাঁসির আদেশ ও দুজনকে খালাস দেয়। হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে এবং নাজমুল ও আবদুস সালামের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ নিখোঁজ হন। দুদিন পর শিক্ষক কোয়ার্টারের বাসার বাইরে ম্যানহোলে তার লাশ পাওয়া যায়। ওই ঘটনার পর ৩ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তাতে অধ্যাপক তাহেরের সহকর্মী মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী, তাহেরের বাসার তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর, জাহাঙ্গীরের ভাই আবদুস সালাম, তাদের (জাহাঙ্গীর ও আবদুস সালাম) বাবা আজিমুদ্দীন মুনশি এবং সালামের আত্মীয় নাজমুলকে আসামি করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর জাহাঙ্গীর, নাজমুল ও সালাম আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছিলেন, মহিউদ্দিন ও সালেহী তাদের কম্পিউটার, টাকা-পয়সা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অধ্যাপক তাহেরকে হত্যা করার কাজে লাগান। তবে মিয়া মহিউদ্দিন আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।

পরে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, তখনকার সহযোগী অধ্যাপক মিয়া মহিউদ্দিন পদোন্নতি পেতে বিভাগে আবেদন করেছিলেন। পদোন্নতির ওই কমিটিতে ড. তাহেরও ছিলেন। তিনি মহিউদ্দিনের কয়েকটি প্রতারণা প্রাথমিকভাবে ধরে ফেলেন। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পরে এসব প্রতারণা প্রমাণিত হয়।

সেই অসন্তোষ থেকে মিয়া মহিউদ্দিন এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী তাহেরকে বাসায় হত্যা করে লাশ ম্যানহোলে ঢুকিয়ে রাখা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত