বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী এহসান উল্লাহ ধ্রুব ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার অভিযোগ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান তাকে শ্রেণিকক্ষে সবার সামনে অপমান করেন। তার দাবি, ছাত্রলীগ করার কারণেই তিনি এ ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে, সেদিন শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ধ্রুবর একাধিক সহপাঠীর ফেসবুক পোস্ট মারফত জানা যায়, অধ্যাপক তানজীম ওই দিন ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে কোনো কথাই উচ্চারণ করেননি; বরং পুরো ব্যাপারটা শিক্ষকের স্বাভাবিক শাসনসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ ছিল।
তারা আরও জানান, ধ্রুব তার ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর থেকেই তিনি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে নানা ভাবে সেই নারী শিক্ষার্থীর নামে কুৎসা রটাতে থাকেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেম। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শ্রেণিকক্ষে অধ্যাপক তানজিম কুৎসা-গুজব রটানো শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানায় ধ্রুব। তখন তিনি ধ্রুবকে শিক্ষকসুলভ শাসন করেন এবং এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করেন। পরবর্তীতে, একসাথে বিকেলে নাস্তাও করেন তারা যা স্নেহসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক আহনাফ সাঈদ খান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের কার্যক্রম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে একজন শিক্ষককে হেয় প্রতিপন্ন করা। একজন নিরপরাধ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ।
সংগঠনের এক নেতা "প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে রক্তের মূল্য আদায় করা হবে" বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। যা প্রকারান্তরে প্রাণনাশের হুমকি বলে মনে করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। একই সাথে তারা অধ্যাপক তানজিমের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
