শালবনে অবাধে বালু-পাথর উত্তোলন, এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩, ০৩:০৮ পিএম

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড় এলাকায় গত পাঁচ বছরে অবৈধ ভাবে পাহাড় কেটে লাল বালু,নুড়ি পাথর উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের ফলে গারো পাহাড় এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর শালবাগান ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। ঝিনাইগাতীর এই সীমান্তে গারো পাহাড় বর্তমানে ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হয়েছে।

এর পেছনে মূলত সরকার দলীয় উপজেলার প্রভাবশালী নেতাসহ পাহাড়ের স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী এবং অসাধু বন কর্মকর্তা মোকরুল ইসলাম আকন্দের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন এলাকাবাসী। ঘটনা আড়াল করতে বন বিভাগ শতাধিক নিরীহ সীমান্তবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ করেছেন।

ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাথর উত্তোলনের দায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জড়িয়ে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা ও স্থানীয় এক সংবাদ কর্মীর অডিও ভাইরাল হলে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বন বিভাগ বলছে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার এই পাহাড় গুলো ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র। গারো পাহাড়ের গজনী, হালচাটি, বাঁকাকুড়া, গান্দিগাঁও এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গজারি বাগানের পাহাড় কেটে ও পাহাড়ি নদী-ঝর্ণা থেকে দীর্ঘদিন থেকে অবাধে পাথর ও বালু উত্তোলন করে আসছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল । প্রধান সড়কের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে চলে গভীর রাতে উত্তোলন। আর গহীন অরণ্যে দিনের বেলায় তোলা হয় পাথর ও বালু। রাতের অন্ধকারে ট্রলি ও পিকআপে করে উত্তোলনকৃত পাথর বালু পাচার করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। এভাবে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকা মূল্যের পাথর ও বালু লুটপাট করছে ওই প্রভাবশালীরা। খোদ বন বিভাগের উপর গাড়ি প্রতি কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত কয়েক বছরে নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংসের কারণে এবং বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে পাথর লুটপাটের কারণে এই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হুমকির মুখে।

অভিযোগ আছে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকরুল ইসলাম আকন্দ তার অপকর্ম ঢাকতে পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি বাঙালি ও ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির করেছেন।

গান্ধীগাঁও গ্রামের সুজন মিয়া বলেন, ‘আমি পাথর বালু উত্তোলন করিনা, দিন মজুরের কাজ করি। তারপরেও বন বিভাগ আমার নামে মামলা দিছে। যারা পাথর বালি উত্তোলন করে তারা প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তাদের নামে মামলা দেয় না’।

সেভেন গাড়ো বলেন, ‘সাইফুল, আলম এবং বন বিভাগ এরাই বালি পাথর পাহাড় থেকে উঠায়। পাথর নিয়মিত তোলার জন্য বাকাকুড়া জিয়ার খাল এবং পাশেই গজারি বাগান প্রায় ধ্বংসের পথে’।

বাকাকুড়া গ্রামের আমিনুল জানায়, পাথর উত্তোলনের মূল হোতা নুর জালাল, মুসা মেম্বার, তালেব এদেরকে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকরুল ইসলাম আকন্দ পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলনে সহযোগিতা করে থাকে। ‘আমি এক ব্যবসায়ীর মালটার বাগানে কাজ করি এবং সেখানেই থাকি। আমার নামেও বালু উত্তোলনের মিথ্যা মামলা দিছে। আমি সরকারের কাছে বিচার চাই’।

রাংটিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকরুল ইসলাম আকন্দ বালি পাথর উত্তোলনের বিষয় অস্বীকার করেন। তিনি বলেন ঝিনাইগাতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাথর উত্তোলনের বিষটি জানেন।

ঝিনাইগাতি নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ বলেন, 'আমাদের কোন পাথর মহাল বা সরকারিভাবে ডাক নেই। তাই পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলন অবৈধ। আমরা কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পাথর উত্তোলন বন্ধে বিজিবি, থানা এবং বন বিভাগ যৌথ টহল দিবে।' মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বন বিভাগ জানিয়েছিল পাহাড় থেকে পাথর বালি উত্তোলন হয় না।

শেরপুর সহকারী বন সংরক্ষক আবু ইউসুফ জানান, পাহাড় ধ্বংস নয় রক্ষা করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাথর উত্তোলনের সাথে বন বিভাগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত