স্বনামধন্য, প্রাজ্ঞ, বর্ষীয়ান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। উন্নয়ন চিন্তাবিদ, পরিবেশকর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক ইনস্টিটিউট- ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন, মুজিবনগর সরকারের অধীনে পরিকল্পনা সেলে কর্মরত ছিলেন। একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এই বরেণ্য অর্থনীতিবিদ মুখোমুখি হয়েছিলেন দেশ রূপান্তরের। বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বিশ্বমন্দা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বললেন দীর্ঘক্ষণ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সহকারী সম্পাদক তাপস রায়হান
দেশ রূপান্তর : বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র কেমন?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : আমি তো খারাপ কিছু দেখি না। মনে রাখতে হবে, পৃথিবী এখন দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থা। এই পরিস্থিতির মধ্যে, আমাদের দেশ অনেক ভালো করছে। তবে একটা চ্যালেঞ্জ আছে। পৃথিবীর সব দেশেই, কিছু না কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, যেটি এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হয়। ‘চ্যালেঞ্জ নেই’, পৃথিবীর এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে না। সেটি হতে পারে- সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক। এর বাইরেও চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে। একটি সমাজে, কোনো না কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ সবসময়ই থাকে। এটি থাকলেই যে অর্থনীতির খারাপ অবস্থা, তা না। এখন তো বিশ্ব, একটি জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা যেটিকে- গ্লোবাল ভিলেজ বলি। ফলে অন্য দেশে কিছু হলে, তার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে। দুটো ধাক্কা, আমাদের সামাল দিতে হচ্ছে। প্রথমত, করোনা। এটা কোত্থেকে, কীভাবে হলো- কেউ জানে না। এটা কিন্তু বিশ্ব মহামারী। আগামীতেও এরকম হতে পারে। বাংলাদেশ কিন্তু চমৎকারভাবে, এই দুরূহ পথ পাড়ি দিয়েছে। এর দুটো দিক আছে। একটা হচ্ছে, স্বাস্থ্যগত আরেকটা অর্থনৈতিক। আমাদের ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো ছিল। আমরা যখন করোনার টিকা পেয়েছি, তখনো কিন্তু বিশ্বের ১৩০টি দেশ এই টিকা পায়নি। বিনামূল্যে দেশের মানুষ, এই টিকা পেয়েছে। আমি তো চতুর্থ ডোজ দিলাম। টিকার স্বাস্থ্যগত দিকটা খুবই চমৎকার। হাসপাতালের ব্যবস্থা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা- এসব ক্ষেত্রে আমরা অনেক ভালো করেছি। আবার অর্থনৈতিকভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাদেরও একাধিকবার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের একটা চরিত্র আছে, অপরকে পছন্দ করি না। কিন্তু কোনো দুর্যোগের মুখোমুখি হলে, আমরা এক হয়ে যাই। যেটা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখেছি, ৮৬ সালের বন্যায় দেখেছি। ৯৮ সালের বন্যাতেও দেখেছি। তখন আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের, অনৈক্য কাজ করে না। যে কোনো দুর্যোগের সময় আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াই, এবারও কিন্তু দাঁড়িয়েছি।
দেশ রূপান্তর : এর মানে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : না, সবাই না। একদল চুরি করেছে। আরেক দল পাশে দাঁড়িয়েছে। বলা হয়েছিল, অনেক মানুষ মারা যাবে। কই, তাতো হয়নি? এটা কিন্তু সরকারের সাফল্য। বিষয়টি স্বীকার করতে হবে।
দেশ রূপান্তর : এর মানে, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : হ্যাঁ। তা বলা যেতে পারে। তবে, করোনার আগে অর্থনীতির যে অবস্থা ছিল- এখনো সেই অবস্থায় যেতে পারিনি। কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা ভালো করেছি। অর্থনৈতিক দিকেও ভালো করেছি, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ভালো করেছি।
দেশ রূপান্তর : কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তো, জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : সেটা তো দায়িত্ব। এটা করতেই হবে। সেটা আমরাও করছি।
দেশ রূপান্তর : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কি আমাদের, কোনো ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : অবশ্যই। বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
দেশ রূপান্তর : তাহলে কি বলতে পারি, আমদানি নির্ভরতার কারণে এই চ্যালেঞ্জ বেশি?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : না। আমরা তো কম নির্ভরশীল। পৃথিবীর অনেক দেশ, এই আমদানির ওপর নির্ভর করে।
দেশ রূপান্তর : আপনি বলতে চাইছেন, আমরা কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : বিশ্বের অনেক দেশ থেকে, ভালো অবস্থানে আছি। আমাদের মৌলিক দিকগুলো ভালো। কিন্তু করোনার আগে অর্থনীতির যে চিত্র ছিল, সেই জায়গায় এখনো যেতে পারিনি। ২০১৮-১৯ সালে প্রবৃদ্ধির হার ছিল, ৮.১৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রাক্কলন করা হয়েছে- ৬.৫-৭। এখনো আমরা আগের জায়গায় যেতে পারিনি। কিন্তু অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বলা যেতে পারে- আমরা ভালো আছি।
দেশ রূপান্তর : এই যে, প্রবৃদ্ধি হ্রাস এর মূল কারণ কী?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : বিশ্ব প্রেক্ষাপট একটা মূল কারণ। তারপর আমাদের দেশের মধ্যে...
দেশ রূপান্তর : আপনি কি বলতে চাইছেন, সম্পদ বণ্টন ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি রয়েছে?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : অবশ্যই। এটা দেশের মধ্যে যেমন আছে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও রয়েছে। তবে এখন কিন্তু আমরা এগিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি।
দেশ রূপান্তর : দ্রব্যমূল্য এবং বিদ্যুতের দাম তো, ক্রমশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন- আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্য হ্রাস পেলে, আমাদের এখানেও সমন্বয় করা হবে। তবে সেটা এখনো দৃশ্যমান না। আমি আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন, সেটা করা হবে। আর জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে। এর সুফল নিশ্চয়ই আমরা পাব।
দেশ রূপান্তর : কোথাও কি সমস্যা হচ্ছে? সম্পদের সুষম বণ্টন হলে তো, এমন হওয়ার কথা না?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : আমি ঐখানেই যাচ্ছিলাম। এটা আগেও ছিল, এখনো আছে। শুধু আমাদের দেশে না। সমস্ত বিশে^ই বণ্টন ব্যবস্থায়, সমস্যা আছে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে মাত্র ১ শতাংশের হাতে, পৃথিবীর অর্ধেক সম্পদ। বাকি ৯৯%-এর হাতে আছে, বাকি অর্ধেক। এরমধ্যেও সমস্যা আছে। অনেক বৈষম্য। দেখা যায়, কারও অনেক বেশি। কারও একেবারেই কম। যে কারণে আমেরিকাতেও দেখা যায়, সেখানে ‘লঙ্গরখানা’ আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১ শতাংশের হাতে ৪০ শতাংশ সম্পদ। তো, আমাদের এখানে সম্পদের হিসাবটা খুব একটা পরিষ্কার না। বৈষম্য পরিমাপক সূচক ২০১০ সালে ছিল ০.৪৫। ২০১৮ সালে এসে এটা ০.৪৮ হয়ে যায়। বর্তমানে মনে হয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক- বৈষম্য খারাপের দিকে যাচ্ছে। ওপরের যারা তারা বেশি ধনী হচ্ছে। নিচের দিকে যারা, তারা আরও দরিদ্র হচ্ছে। বৈষম্যটা প্রকট। এটা অনেকটা, সরকারিভাবেই স্বীকৃত। তবে পরিস্থিতি কিন্তু আরও খারাপ হতে পারত। কতগুলো পদক্ষেপ, আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কিছু পথ আছে। সমস্যা হচ্ছে, আমাদের দেশে আইনের বাস্তবায়ন কম। অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় না।
দেশ রূপান্তর : এই দায় কার?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : যারা বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছেন, এই দায় তাদের। একদম, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত। এখানে অনেক কর্মকর্তা থাকতে পারেন। মন্ত্রী-সচিবও থাকতে পারেন।
দেশ রূপান্তর : এটা কি তাদের অদক্ষতা না অবহেলা?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : দুটোই। অবহেলাও আছে, অদক্ষতাও আছে। এছাড়া আত্মতুষ্টিও আছে। কিছুটা আবার তদারকির সমস্যা। আরেকটা বিষয় হচ্ছে- যারা দুর্নীতি করেন, ঠিকমতো বাস্তবায়ন করেন না- তাদের বিচার যেমন হওয়ার কথা ছিল, তেমন হচ্ছে না। এতে অনেকেই, প্রশ্রয় পাচ্ছে। এই সমস্ত কারণেই, লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। এই জায়গায় বড় ধরনের সমস্যা আছে। না হলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতাম। কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছি। এখন যদি দুর্নীতি কমিয়ে আনা না যায়, ব্যাংকের যে টাকা পাচার হচ্ছে, এটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়- তাহলে সমস্যা হতে পারে।
দেশ রূপান্তর : মানুষের চাহিদা বাড়ছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতির কোনো যোগসূত্র আছে?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : আসলে এটা চাহিদা এবং সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। এর বাইরে, কিছু ব্যবসায়ী আছেন, যারা কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করেন। আমাদের আমদানি করতে হয়, অনেক পণ্য। এখন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়াতে, আমদানি ব্যয়ও বেড়ে গেছে। কারণ অনেক দেশে উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে, সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। এখন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়াতে আমাদের টাকার মান কমে গেছে। এই কারণেও কিন্তু মূল্যস্ফীতি হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : তাহলে কি বলতে পারি- আগামীতে কোনো ধরনের দুর্ভিক্ষ বা অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে, আমরা সক্ষম হব?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : আমার ধারণা, সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে তা ঠিকমতো কার্যকর হলে, কোনো ধরনের বিপর্যয় হবে না। ‘নীতি’তে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও তদারকি দরকার।
দেশ রূপান্তর : এর মানে, অর্থনৈতিক মন্দার কোনো সুযোগ নেই?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : এটা হবে না বলেই, আমার বিশ্বাস। ঐ যে বললাম, শর্তসাপেক্ষে। আরও সচেতন হতে হবে। বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তো বলছে, বিশ্বমন্দা হবে। যদি তাই-ই হয়, তাহলে এর প্রভাব, আমাদের অর্থনীতিতেও পড়বে। তবে ততটা খারাপ হবে না। আরেকটা বিষয়, বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। সেখানে শঙ্কার একটা কারণ আছে। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, আমাদের সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হতে হবে। সব যদি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহৃত হয়, তাহলে আমার মনে হয় না- পরিস্থিতি তেমন একটা খারাপ হবে।
দেশ রূপান্তর : তাহলে কি বলা যায়, আগামীতে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতির দিকে যাবে?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : এটা তো নিশ্চিত করে বলা যাবে না। মাঝখানে যদি কোনো বিশ^ মহামারী দেখা দেয়, তার প্রভাব তো আমাদের এখানেও পড়বে। তবে আমাদের কিন্তু একটা লক্ষ্য আছে। ২০৩০ সালে আমরা, টেকসই উন্নয়ন করব। ২০৩১ সালে আমরা, উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হব। আর ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশ হব। এই লক্ষ্যগুলো সামনে রেখেই, সব কাজ করা হচ্ছিল। আমাদের প্রস্তুতিও তেমনই ছিল। কিন্তু করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আমাদের আটকে দিল। আবার তা পুনরুদ্ধার করে সেই পথে যাওয়া তো, সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এই লক্ষ্যগুলো এখনো আছে। তবে পৌঁছা যাবে কি না, সেটা নির্ভর করে আগামীতে কীভাবে নীতিগুলো বাস্তবায়িত হবে?
দেশ রূপান্তর : আমরা একটু, অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলি। মানুষের চাহিদা যখন বাড়ছে এবং জোগান যখন কমছে- তার সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির কোনো সম্পর্ক আছে?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : আছে তো! চাহিদা বাড়লে, দাম বাড়বেই।
দেশ রূপান্তর : আপনি ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এ বিষয়ে একটু বিস্তারিত বলবেন?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : আমি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে পড়াশোনা করেছি। সেখান থেকেই পিএইচডি করেছি। দিল্লিতে স্কুল অব ইকোনমিক্স আছে। লাহোরে আছে। কিন্তু বাংলাদেশে ছিল না। ২০১০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি এখনো সভাপতি। এছাড়া বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতির সভাপতি ছিলাম ৩ বার। সেখান থেকেই আমরা, এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বর্তমানে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ। এই স্কুলের ডিগ্রি দেওয়া হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। এটা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীভূত প্রতিষ্ঠান।
দেশ রূপান্তর : আপনি মুক্তিযুদ্ধকালীন, মুজিবনগর সরকারের অধীনে পরিকল্পনা সেলে কর্মরত ছিলেন। সেইসময়, আপনাদের কাজ কোন ধরনের ছিল?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন ছিলেন। অনেক ধরনের কাজ করতে হতো। আমি ছিলাম, যুবক বয়সী। কেন জানি না, সৌভাগ্যক্রমে দেশের প্রথম ‘পাটনীতি’ আমিই তৈরি করেছিলাম। এই ভেবে যে, যদি স্বাধীন হয়ে যাই- তাহলে তো এটি কাজে আসবে। ওটাই কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম ‘পাটনীতি’।
দেশ রূপান্তর : শেষে কিছু বলবেন?
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ : হা হা হা। এই ৮২ বছর বয়সে, কী আর বলব? সুস্থ থাকুক, বাংলাদেশের মানুষ। ভালো থাকুক, দেশ রূপান্তরের সবাই।
