বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কেউ বেশি দিন কারও প্রিয় থাকে না

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৩, ১২:৫২ এএম

এই দুনিয়াতে বেশি দিন কেউ কারও প্রিয় থাকে না, কেউ না। শতভাগ উজাড় করে ভালোবেসেও কারও হৃদয়ের সবটুকু জায়গা দখল করা সম্ভব না। উল্টো আপনার অশান্তি, আপনার ডিপ্রেশন কিংবা প্রশান্তি নষ্ট করবে আপনারই প্রিয়মুখগুলো, যাদের খুশি করতে আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আপনার চাপা স্বভাবের কারণে তারাই আপনাকে সবচেয়ে বেশি আহত করবে, ক্ষতবিক্ষত করবে, আপনার দুই চোখে অশ্রু ঝরাবে।

যে সন্তানকে আপন ভাবছেন, সে এখন আপনার অনুগত হলেও একটু পরেই অবাধ্য হয়ে যাবে। যে মাকে আপনি সবচেয়ে বেশি আপন ভাবছেন, তিনিও আপনার আরেক ভাইয়ের কানকথা শুনে (প্রভাবিত হয়ে) আপনার পর হয়ে যাবে। সুতরাং দুনিয়াতে কেউ কারও ষোলোআনা আপন হয় না, কেউ না।

আমাদের এই জীবনটা স্রেফ মানুষকে খুশি রাখার একটা সংগ্রাম মাত্র। আমরা ছোটবেলায় মা-বাবাকে খুশি করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ষোলোআনা পারিনি, বন্ধু-বান্ধবকে খুশি করার চেষ্টা করেছি কিন্তু ষোলোআনা পারিনি, বিয়ের পরে স্ত্রীকে খুশি করার চেষ্টা করেছি তাও ষোলোআনা পারিনি! কর্মক্ষেত্রে, ব্যক্তিজীবনে সবজায়গায় আমরা বারো আনাই ব্যর্থ, যদিও চার আনা সফল হই। তবে, একজনই আছেন যাকে আপন করলে তিনি কখনো পর হন না, কখনো ছেড়ে যান না, তিনি ষোলো আনাই আপন হন, তিনি হলেন- আমাদের রব, মহান আল্লাহ।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর ভাষার, ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ো না। মনে রেখো অন্ধকারে নিজের ছায়াও নিজেকে ছেড়ে চলে যায়।’

জ্ঞানীরা বলেন, দুঃখ-কষ্টগুলো মানুষের কাছে প্রকাশ না করে নিজের ভেতর রাখুন, নীরবে আল্লাহর কাছে জানিয়ে রাখুন। আলহামদুলিল্লাহ বলে সবর করুন। দয়াময় আল্লাহতায়ালা একদিন সত্যিই সব কিছু ঠিক করে দেবেন- এই বিশ্বাসটাই নতুন করে বাঁচতে, ভালো থাকতে, কিংবা হাজারো কষ্টের মধ্যে হাসতে শেখায়। এই তো জীবন, যে জীবনে কেউ কারও ষোলআনা দরদি হয় না, কেউ না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত