শিল্পের মধ্য দিয়ে যা রচিত হয় তা-ও ‘মানুষ’

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩, ১২:২৮ এএম

শিল্প মানুষের মননকে বিস্তৃত করে। ব্যক্তিমানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বৃহৎ পরিসরে উন্মোচিত করে। দেশীয় সাংস্কৃতিক জীবন বা তার সামগ্রিক জীবন, উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পের আন্তরিক অভিঘাত তাকে ঋদ্ধ করে। বৈশ্বিক বাতাবরণে একটি অঞ্চল বা দেশের মানুষের সঙ্গে অন্য অঞ্চল ও দেশের মানুষের যোগাযোগ বা আলাপনের ক্ষেত্রে শিল্পের ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে হাজির হয়। অবচেতন মনের এক তাড়না নিয়ে মানুষ প্রবেশ করেছিল শিল্পের অখণ্ড ব্রহ্মাণ্ডে, তার এই যাত্রা বহমান।

নানা ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাঙালি নানান সময় নানান বৈদেশিক শাসকগোষ্ঠীর সংস্পর্শে এসেছে, তেমনই তার নিজস্ব সংস্কৃতির মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির সংশ্লেষ ঘটেছে। এক্ষেত্রে শিল্প ও শিল্পের চর্চা সবসময়ই কিছু সংযোজন আর কিছু বিয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন গতিপথ রচনা করেছে বাঙালির জীবনে। এটিই বিশ্বপ্রকৃতির নিজেকে প্রবহমান রাখার উপায়। মানবজীবন, মানবসম্পর্ক ও মানবানুভূতির প্রকাশ শিল্পের মাধ্যমে সঞ্চারিত হয় মানবমননে। শিল্প সর্বদাই ‘মানুষ’ নামের এক মহাযাত্রাকে নিয়ে আবর্তিত হয়। মানুষই শিল্প রচনা করে, আবার শিল্পের মধ্য দিয়ে যা রচিত হয় তা-ও ‘মানুষ’।

image

আমাদের বাংলাদেশে আধুনিক শিল্পচর্চার একদম শুরু থেকেই শিল্পীদের শিল্পকর্মের বিষয় হিসেবে ‘মানুষ’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, প্রাকৃতিক পরিবেশ, দৈনন্দিন কার্যপ্রণালী খুব সহজভাবে প্রতিফলিত হয়েছে আমাদের শিল্পীদের ক্যানভাসে। এই লেখায় আমরা বাংলাদেশের কয়েকজন পুরোধা শিল্পীকে নিয়ে কথা বলতে পারি, যাদের চিত্রকলা-চর্চা প্রায় সম্পূর্ণ অর্থেই ‘মানুষ’কে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। মনে হয়ে থাকে তাদের মানসটে ‘মানুষে’র ছবি ভিন্ন অন্য কোনো ছবি খুব অল্পই প্রাধান্য পেত। কখনো নিপাট নান্দনিক ভূমিকায়, কখনো বা তার অস্তিত্বের প্রকাশে, কখনো তার সাংস্কৃতিক চরিত্রের কথা জানান দিতে গিয়ে, আবার কখনো তার মানবিক প্রয়োজনের তাগিদে। বৈপ্লবিক অভিব্যক্তির জায়গা থেকেও আমরা এই শিল্পীদের ‘মানুষ’ আঁকতে দেখেছি। একথা ঠিক যে, লেখাটি সংক্ষিপ্ত রাখার দায় থেকে আমাদের মাত্র ৫জন শিল্পীর নাম উল্লেখ করেই সীমা টানতে হলো।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন

জয়নুল আবেদিন ময়মনসিংহের এক সাধারণ পরিবার থেকে তার শিল্পজীবন শুরু করেছিলেন। এক সংগ্রামী জীবনের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশে শিল্পচর্চার প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ তৈরি করেছেন। প্রতিকূল পরিবেশকে তিনি আয়ত্তে এনেছেন, এঁকেছেন মানুষের জীবনের গল্প। সেই গল্প ছিল কখনো সংগ্রামের, কখনো কলঙ্কের, কখনো দুর্যোগের। শিল্পাচার্যের সাধারণ মানুষের জীবনকে অন্বেষণ করবার প্রক্রিয়া আর তা চিত্রপটে প্রতিফলিত করার শক্তি বাংলার শিল্পকলায় সময়ের নিজস্ব দলিল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

শুরুতে তার ছবিতে স্নিগ্ধ প্রকৃতি, সরল সাধারণ মানুষ দেখা গিয়েছে। পরে তেতাল্লিশের মন্বন্তর নতুন এক জয়নুলকে বিশ্বের দরবারে হাজির করেছিল। সন্ধান দিয়েছিল এক প্রতিবাদী চরিত্রের, যিনি বাংলার কলঙ্কের ইতিহাসকে পৃথিবীর সামনে প্রকাশ করেছেন।

বাংলার ভূমিব্যবস্থা, কৃষিসভ্যতা আর উৎপাদনকে শাসকগোষ্ঠী ব্যবহার করে জনমানুষকে যে দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন করেছিল এবং যে বঞ্চনার জন্ম দিয়েছিল, তার প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া আমরা দেখি জয়নুলের দুর্ভিক্ষ চিত্রমালায়। মানুষের নজিরবিহীন দুর্দশার ছবি জয়নুল এঁকেছেন তার অভিব্যক্তিবাদী চিত্রভাষার মধ্য দিয়ে। সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগকে প্রতিপাদ্য করে তিনি সময়কে এঁকেছেন। গভীর মমত্ববোধ আর নিজস্ব মানবীয় বেদনাকে কর্কশ কালি দিয়ে এঁকেছেন, খুব সাধারণ কাগজে। সামাজিক দায়বোধ একজন শিল্পীর আদর্শগত ও শৈলীগত চেতনায় কীভাবে স্থায়িত্ব পেতে পারে তা শিল্পাচার্যের চিত্রে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

দুর্ভিক্ষ চিত্রমালা এবং পরে তার অঙ্কিত অবয়বধর্মী কাজগুলোর প্রতি গভীর দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে, এখানে মানুষই সবচেয়ে মুখ্য বিষয়। প্রকৃতি বা নিসর্গ তার যেসব ছবিতে বিস্তৃতভাবে এসেছে সেখানেও স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে এই নিসর্গ বা প্রকৃতি মানুষেরই অস্তিত্ব কিংবা বিরাটত্বকে ফুটিয়ে তুলবার সহায়ক। তার এই মনুষ্য পরিচিতিকে সর্বাধিক গুরুত্বদানের দরুণ তার ছবিতে দেখা যায় মানুষেরা অভাবী বা কায়ক্লিষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত তারা শ্রমজীবী। তারা সংগ্রাম হতে পিছপা নন।

পটুয়া কামরুল হাসান

কামরুল হাসান একজন বহুমাত্রিক শিল্পব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি বাঙালি সংস্কৃতি, বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতা আর আধুনিক শিল্পচর্চার মাধ্যমে এখানকার মানুষের স্বকীয় শিল্পভাষা নির্মাণ করেছেন। তিনি শিল্পের বিষয় হিসেবে ‘নারী’ চরিত্রকে প্রাধান্য দিয়েছেন তার চিত্রপটে। তিনি নারীর দৈহিক সৌন্দর্য, বিচিত্র রূপ-ভঙ্গি, দৈনন্দিন জীবনে নারীর অবস্থা, তার পারিপার্শ্বিকতা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের নারীকে প্রতিবিম্বিত করেছেন।

নারীকে শিল্পী কামরুল নিজের এক সংগোপন অভিব্যক্তি আর সুপ্ত কামনার প্রকাশের ভঙ্গিতেও বিকশিত করেছেন। বাঙালি নারীর চিরচেনা রূপকে তিনি তার চেতনাগত উপলব্ধির মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত করেছেন। তার চিত্রভাষা সাবলীল, পরিমিত রঙ আর রেখার সংবেদনশীলতায় পরিবেষ্টিত।

শিল্পী কামরুল হাসানের শিল্পদর্শন মূলত লোক-ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট তৈরি করেছিল। লোকমানুষ, মানুষের লোক-অভিব্যক্তি, তার সমাজ সচেতনতা, জাতীয়তাবোধ, এবং এখানকার মানুষের বাঙালিত্বের সাধনা তার শিল্পচিন্তায় নানামুখী পরিমণ্ডল তৈরি করেছে। এই জীবনাচারণ ও শিল্পদর্শনের জায়গা থেকেই শিল্পী কামরুল নিজেকে এখানকার গ্রামীণ মানুষ ও তার জীবনবোধের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছিলেন। নিজেকে একজন পটুয়া হিসেবেই তিনি পরিচয় করিয়ে দিতেন।

তিনি ১৯৩৮ সালে কলকাতা গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। পরের বছরই, ১৯৩৯ সালে তিনি গুরুসদয় দত্তের ব্রতচারী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এই আন্দোলনটি মূলত উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্যকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্য নিয়েই শুরু হয়েছিল। কামরুল হাসান আমৃত্যু এই আদর্শেই আস্থাশীল ছিলেন। এর মধ্য দিয়েই তিনি দেশ, দেশের সাধারণ মানুষ, তাদের জীবন আর সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন।

শিল্পী এস এম সুলতান

শিল্পী এস এম সুলতান সচরাচর মানুষের সামাজিকতায় কখনো অবস্থান করেননি অথচ তার হাতেই চিত্রিত হয়েছে একেবারে সাধারণ মানুষের গভীর অন্তর্বেদনা। চালচলনের গড়ন গঠনে তিনি খাপ না খাওয়া খামখেয়ালি ধাঁচের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শিল্পী-চরিত্র। প্রকৃতি, মানুষ আর স্বদেশের আত্মাকে শিল্পী সুলতান উপস্থাপন করেছেন তার ছবির মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অবহেলা করার চলমান ধারাকে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন সত্যের আরেক রূপ। চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকে বাংলাদেশে স্বতন্ত্র চিত্রভাষা নির্মাণের প্রবণতার মধ্যে গ্রামবাংলার দৈনন্দিন জীবন আর ‘মানুষ’কে তিনি বিষয়বস্তু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। চিত্রপটে তার মানুষের অবয়বকে এত জৈবিক আর প্রাণময় করবার দক্ষ প্রয়াস বাংলাদেশের শিল্পকলার নতুন দ্বার উন্মোচন করে।

শিল্পের বিষয় হিসেবে তিনি যেমন বেছে নিয়েছিলেন মানুষ, তেমনই মানুষকে উপস্থাপন করেছিলেন স্বভাব শিল্পীর মতো করে; যেন তার চরিত্ররা নির্মিত হয়েছিল যে কোনো শিল্পগত বাধা বা নিয়মতান্ত্রিকতাকে উপেক্ষা করে, অতীব সহজে। তিনি লৌকিক শৈলীকে পরিবর্তন করে নাগরিক লোকশিল্পে রূপান্তর করেছেন। তার শিল্পকর্মের বিষয়বস্তুতে যে সব নারী ও পুরুষ উপস্থাপিত হয়েছে, তারা বিশেষ কেউ নয়, বরং তারা আমাদেরই দেখতে পাওয়া প্রতিদিনকার শ্রমজীবী মানুষ।

বাংলার শ্রমজীবী মানুষ তথা বাংলার সব ভূমিসন্তানদের জীবনযুদ্ধে লড়ে যাওয়ার ছবি এঁকেছেন এস. এম. সুলতান। মানব-মানবীর শারীরিক গঠনকে তিনি এক চূড়ান্ত বলিষ্ঠতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ধারণাকে শিল্পী সুলতান ভেঙে দিয়েছেন তার ক্যানভাসের বুনটে। তিনি নারী ও পুরুষকে সম্মিলিতভাবে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার লড়াইয়ে উপস্থিত করেছেন। বাহ্যিকভাবে সুলতানের নারীরা কোনোভাবেই পুরুষ অপেক্ষা দুর্বল কিংবা সামর্থ্যহীন নয়। শিল্পী সুলতান কখনোই দরিদ্র, দুঃখক্লিষ্ট, হতাশা, অথবা অসহায় মানুষের ছবি আঁকেননি। বরং সেসব মানুষের ছবি এঁকেছেন যারা সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে, যারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, যারা জীবনকে দেখতে চেয়েছে সংগ্রামী দৃষ্টিতে।

শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ

শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের চিত্রকর্মে অবধারিতভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে বাঙালির গৌরবগাথা মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। একজন শিল্পী, যোদ্ধা এবং শিল্পকর্মের বিষয়বস্তু দ্বারা তার এই একাকার হয়ে যাওয়া, একটি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জনের প্রতীকে রূপান্তরিত হওয়া। ব্যক্তি মানুষের জন্য যা প্রায় অসম্ভব এক অর্জন। এরকমই একজন শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

শিল্পী শাহাবুদ্দিনের চিত্রপট সম্পূর্ণভাবে দেশ, দেশাত্মবোধ আর মানুষের প্রকাশ ঘটায়। তার ছবির মুখ্য চরিত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ। এই মানুষকে তিনি প্রকাশ করেছেন বলিষ্ঠ আর সংবেদনশীল হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধের অদম্য এক মনুষ্য শক্তিকে শিল্পী শাহাবুদ্দিন প্রতিবিম্বিত করেছেন তার ক্যানভাসে, ফুটিয়ে তুলেছেন বীরত্ব, মানব ইতিহাসের সাহসীনামা।

জয়নুলের চিত্রকলায় আমরা মানুষের এক রূপ দেখি, যেখানে মানুষ অধিকারহীন, এস এম সুলতানের ছবিতে মানুষকে দেখতে পাই অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। শাহাবুদ্দিনের ছবিতে আমরা এই উভয় মানুষের একটি যুগপৎ সংমিশ্রণ দেখি। যেখানে মানুষের অধিকারহীনতার গোঙানি মুছে যায়নি, আবার তার বিদ্রোহের হুংকারও সমানভাবে দৃশ্যমান। মানুষের বিচিত্র উত্থান, গতির তীব্রতা, মানুষের লড়াইয়ের বিপুল এক শক্তি আমরা শাহাবুদ্দিনের ছবিতে অনুভব করি।

শিল্পী নাজলী লায়লা মনসুর

শিল্পী নাজলী লায়লা মনসুর তার সমাজ, মানুষ এবং সময়কে একজন শিল্পীর দায় থেকে অবলোকন করেন। আর সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব শিল্পসত্তার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে সমাধা করেন। এক্ষেত্রে চারপাশের বাস্তব ঘটনাগুলোকে তিনি চিত্রপটে উপস্থাপন করেন পরাবাস্তব রীতিতে। তার প্রতিটি চিত্রকর্ম নারীকেন্দ্রিক। অর্থাৎ মানুষ বলতে শিল্পী তার চিত্রপটে মূলত নারীতেই বোঝেন।

মানুষ হিসেবে নারীর প্রতিকূল অবস্থা, নারীর শোষণের ইতিহাস, নিপীড়ন, নির্যাতন, নারীর প্রতি অবিচার-অবক্ষয় এই প্রতিটি বিষয়কে শিল্পী নাজলী ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তোলেন ক্যানভাসে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ‘মানুষ’ নারীর প্রতি সমাজের যেই দৃষ্টিভঙ্গি বা যে বৈষম্যের প্রভাব লক্ষ করা যায়, শিল্পী নাজলী তা পর্যবেক্ষণ করেন গভীর সহনশীলতার মধ্য দিয়ে, আর তারই সহনশীল প্রকাশনা ঘটে থাকে তার শিল্পকর্মে। একই সঙ্গে তার শিল্পের প্রকাশ ভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয় প্রতিবাদী রূপ। তার দেখার ধরনটির ভিন্নতা সর্বদাই উড্ডীন। একটি ঘটনাকে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন বাইরে থেকে, পরিস্থিতি বা দৃশ্যাবলিতে তিনি বর্তমান নন, বরং সেই পরিস্থিতির যে প্রতিক্রিয়া তা নিয়ে তিনি ভেবে থাকেন। সামাজিক ঘটনাবলির ক্ষেত্রে প্রধানত নারীর নিগৃহীত হওয়ার এবং বৈষম্যের শিকার হওয়ার বিষয়াবলি তিনি চিত্রপটে তুলে ধরেন।

শিল্পী নাজলী লায়লা মনসুর সুতীব্রভাবে আঘাত করেছেন পুরুষতান্ত্রিকতার একপেশে দৃষ্টিভঙ্গিকে। সমাজে এই অবক্ষয়কে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, শৈল্পিক আবহে তার মৌলিক এই প্রকাশনা কখনোই হারিয়ে যাওয়ার নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত