দারুণ পেশা কপিরাইটিং

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩, ১০:৫৭ পিএম

যদিও কপিরাইটিং পদটি বিজ্ঞাপনের ইতিহাসের বয়সের প্রায় সমান। কিন্তু পেশা হিসেবে কপিরাইটিংয়ের প্রচলন তৈরি হয়েছে খুব বেশি দিন হয়নি। কপিরাইটিং বিজ্ঞাপনী সংস্থার একটি পদবি। এই পেশার মূলকাজ বিজ্ঞাপনের জন্য আকর্ষণীয় শব্দ ও বাক্য রচনা করা। ভালো কপিরাইটিংয়ের জন্য যা জানা প্রয়োজন জানালেন সৈয়দ আখতারুজ্জামান

একসময় বিজ্ঞাপনের সঙ্গে জড়িত প্রায় সবাইকেই এই দক্ষতায় কমবেশি পারদর্শী হতে হতো। আলাদা করে কপিরাইটার পাওয়া যেত না। বর্তমানে অনেকে কাজ করে করে দক্ষ হয়ে এখন কপিরাইটিংকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বাজারে এই পেশার চাহিদা অনেক। ভালো কপিরাইটারের সংখ্যা খুবই কম।

এক. কপিরাইটিং পেশার জন্য সবচেয়ে বড় যে তিনটি যোগ্যতা দরকার তা হলো : ক. শব্দ, বাক্য ও ভাষার ওপর দখল, খ. পণ্য সম্পর্কে ধারণা এবং গ. ক্রেতার পছন্দ-অপছন্দ ও বোঝার ক্ষমতা সম্পর্কে সম্যক অভিজ্ঞতা।

দুই. একজন কপিরাইটারকে পণ্যের নাম থেকে শুরু করে ট্যাগ লাইন, স্লোগান, বিজ্ঞাপনের হেডলাইন, পণ্য সম্পর্কে বর্ণনা, জিঙ্গেল, পণ্য নিয়ে গান, ছড়া, কবিতা ইত্যাদি যেকোনো কিছুই লেখার প্রয়োজন পড়তে পারে। ফলে তার চাই সৃষ্টিশীল লেখার যোগ্যতা।

তিন. কপিরাইটারকে জানতে হয় ভাষায় কথ্য ও লেখ্য উভয় রূপ। জানতে হয় বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষাই। যদিও বর্তমানে বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোতে বাংলা কপিরাইটার ও ইংরেজি কপিরাইটার আলাদা হয়ে থাকেন। চলমান ভাষার ব্যবহার নানা সময়ে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হতে হতে তার রূপ পাল্টে যায়। নতুন নতুন শব্দের জন্ম হয়, প্রয়োগ হয় এবং সমাজে প্রচলিত অর্থ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। একজন কপিরাইটারকে এই প্রচলিত শব্দগুলো সম্পর্কে, ভাষায় চলমান গতি ও প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়।

চার. পণ্য যে ধরনের ক্রেতার জন্য তৈরি করা হয়েছে, অর্থাৎ পণ্য যে ক্রেতাসাধারণের কাছে বিক্রি করা হবে, একজন কপিরাইটারকে তার হৃদয় স্পর্শ করার মতো বাক্য লিখতে পারতে হবে। তার নজর কাড়ার মতো উপযুক্ত বাক্য, শব্দ, ভাষা রচনা করতে পারতে হবে। ফলে কপিরাইটারকে এই বিশেষ ধরনের ক্রেতাসাধারণের রুচি, পছন্দ, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে। তার রচিত বাক্য হবে ক্রেতাদের জন্য হৃদয়গ্রাহী, মর্মস্পর্শী, আকর্ষণীয় ও নজরকাড়া।

পাঁচ. কপিরাইটারের লেখার সমস্ত উদ্দেশ্য ক্রেতাকে উদ্দেশ করে। ক্রেতা নির্ধারিত হয় পণ্যের ওপর ভিত্তি করে। আর এই পণ্য হতে পারে নানা ধরনের। ফলে কপিরাইটারকে নানা ধরনের ক্রেতাদের উদ্দেশ করে নানা রকমের ভাষার প্রয়োগের যোগ্যতায় দক্ষ হতে হবে। আর এজন্য চাই এই নানা স্তরের ও ধরনের ক্রেতাগোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ, চলাচল, অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতার ফলেই কপিরাইটার বুঝতে পারবেন কোন ধরনের ভাষা কোন ধরনের ক্রেতাকে স্পর্শ করবে।

যেহেতু এ পেশার চাহিদা অনেক কিন্তু দেশে ভালো কপিরাইটারের মারাত্মক অভাব, তাই এ পেশায় যিনি দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন তার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কপিরাইটার পদে চাকরির জন্য দেশের নামকরা বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোতে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত