আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘জনগণের পকেট কেটে তারা টাকা নিচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, ডিম, গ্যাস-বিদ্যুৎ সবকিছুর দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকার উন্নয়নের কথা বলে। কোথায় তাদের উন্নয়ন। মানুষ ভাত খেতে পারে না, মানুষের চাকরি নেই। তাহলে উন্নয়ন ধুয়ে খাবে মানুষ।’
গতকাল শুক্রবার সিলেট মহানগর বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারের অপকীর্তি বলে শেষ করা যাবে না। তারা সংবিধান কাটাছেঁড়া করে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। মানুষ ভোট দিতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছে। এটা একটা দানবীয় সরকার। এ কারণে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ জেগে উঠেছে। দানবীয় সরকারকে বিতাড়িত করে পরিবর্তন আনতে হবে।’
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকীর পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, এনামুল হক চৌধুরী ও তাহসিনা রুশদীর লুনা; বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ।
আওয়ামী লীগ দেশকে পুরোপুরি বিভক্ত করে ফেলেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আবার তারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে না। তারা জানে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। এ অবস্থায় সরকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ঘোষিত ১০ দফা অনুযায়ী সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন হবে, যাতে জনগণ ভোট দিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে পারে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকার ভয়াবহ নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলনে ১৭ জন নেতাকর্মী রাজপথে প্রাণ দিয়েছেন। শত শত নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে, গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এত নির্যাতনের পরও দুর্বার গতিতে মানুষ জেগে উঠেছে। জেগে উঠেছে একটিমাত্র লক্ষ্যেই, আর তা হলো যেভাবেই হোক এই দানব সরকারকে বিতাড়িত করতে।’
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সিলেট মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ডের ১ হাজার ৯১৭ জন কাউন্সিলর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।
