জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রীদের ৩টি আবাসিক হলে ঢুকে ছাত্রীদের গালাগালি ও হেনস্তা করেছেন অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক। গত শনিবার রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল হল, বেগম খালেদা জিয়া হল ও শেখ হাসিনা হলে এসব ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ওই দিন চুরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন ছাত্রীরা। পাঁচদিনের ব্যবধানে হলের ভেতরে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ছাত্রীরা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাত ৩টার দিকে বেগম সুফিয়া কামাল হলের গণরুমের (ডাইনিং) জানালার কাচ ভেঙে গালিগালাজ করতে থাকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক। তখন ছাত্রীরা চিৎকার করতে থাকেন। এ খবর পেয়ে হল সুপার ও নিরাপত্তাপ্রহরীরা সেখানে যাওয়ার আগেই ওই যুবক সটকে পড়ে। ভোর পাঁচটার দিকে আবারও ওই যুবক এসে জানালার পাশে চিৎকার করে গালিগালাজ করতে থাকলে ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন ছাত্রীরা। তবে এবারও নিরাপত্তাপ্রহরীরা সেখানে যাওয়ার আগেই ওই যুবক সটকে পড়ে।
শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীরা জানান, ভোর চারটার দিকে নিচতলার ১১৮ নম্বর কক্ষের কার্নিশ থেকে গাছের টব সরিয়ে সেখানে বসে জানালায় টোকা দিতে থাকে এক ব্যক্তি। তখন কক্ষটির এক ছাত্রী ভয়ে চিৎকার দিলে অন্যরা জেগে ওঠেন। সেখান থেকে সরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে হলের অন্য ব্লকে গিয়ে একই আচরণ করতে থাকে ওই ব্যক্তি। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা সেখানে গেলে তাকে আর পাওয়া যায়নি। এর আগেও গত মঙ্গলবার ভোরে হলটিতে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিল হল কর্র্তৃপক্ষ।
শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ হোসনে আরা ঘটনা দুটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘হলের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি। আগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে বেগম খালেদা জিয়া হলে ভোর সাড়ে চারটার দিকে নিচতলার ১১৭ নম্বর কক্ষের জানালায় দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি কিছুক্ষণ ধরে গালিগালাজ করে ছাত্রীদের হেনস্তা করে। ওই ব্যক্তি জানালা দিয়ে কক্ষের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে এক ছাত্রীর ব্যাগ নিয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী কামরুন নাহার বলেন, ‘ভোরবেলা আমাদের গালিগালাজ ও হেনস্তা করা হলো, হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তখন কোথায় ছিল?’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘এমন ঘটনা যেহেতু ঘটেছে, আমরা হলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করব।’
আর সার্বিক বিষয়ে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হল প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।’
