অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ

অবহেলাকেই প্রধান সমস্যা বলছে তদন্ত কমিটি

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৩, ০১:৪৬ এএম

মূলত কারখানা কর্র্তৃপক্ষের অবহেলাতেই বিস্ফোরণ ঘটেছে চট্টগ্রামের সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে। এর সঙ্গে আরও দুটি কারণও রয়েছে। ওই বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাকিব হাসান তদন্ত প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।

এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্য তদন্ত প্রতিবেদনে ৯ দফা সুপারিশও করা হয়েছে। আর এসব সুপারিশের আলোকে ২০ মার্চ চট্টগ্রামের অক্সিজেন প্ল্যান্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কর্মশালারও আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। তবে বিস্ফোরণের কারণ ও সুপারিশগুলো

বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেননি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্টটি সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। এটি আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠিয়ে দেব। তাদের অনুমতি সাপেক্ষে বিস্ফোরণের কারণ ও সুপারিশগুলো মিডিয়াকে জানানো হবে।’

সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টের সব ছাড়পত্র যথাযথ ছিল কি না জানতে চাইলে আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান উত্তর দেওয়ার জন্য তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রাকিব হাসানকে বলেন। রাকিব হাসান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু সমস্যা তো ছিলই; তবে অবহেলাই ছিল প্রধান সমস্যা। এ ছাড়া দেশে অক্সিজেন প্ল্যান্টে আগে কখনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। শুধু দেশেই নয়, সারা বিশ্বে এক দশকে মাত্র তিন থেকে চারটি ঘটনা ঘটেছিল। তাই আগামীতে যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় চট্টগ্রামের অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলোর প্রতিনিধিদের জন্য একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অক্সিজেন সেপারেশন কলামে যে বিস্ফোরণ হয়েছিল তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।’

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের পরদিন দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানেও অক্সিজেন সেপারেশন কলামটি বিস্ফোরিত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল। প্রায় ১০০ ফুট উঁচু এবং ১৪ ফুট বাই ১৪ ফুট আয়তনের অক্সিজেন সেপারেশন কলামটি বিস্ফোরিত হওয়ায় এর গায়ে লাগানো লোহার শিটগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর এতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। মানুষও মারা গিয়েছিল এসব লোহার শিটের আঘাতে। এ কলামটিতে এসে অক্সিজেন জমা হতো। একই সঙ্গে দুটি পাইপ দিয়ে আসত বাতাস। আর দুটি পাইপ দিয়ে উৎপাদিত অক্সিজেন দুটি ডেলিভারি পয়েন্টে চলে যেত। সেই ডেলিভারি পয়েন্টে প্রায় ২৪টি সিলিন্ডারে একসঙ্গে অক্সিজেন রিফিল করা হতো। প্ল্যান্টে দুটি ডেলিভারি পয়েন্ট ছিল। কোনো না কোনো কারণে ডেলিভারি হতে না পারায় জমে থাকা অক্সিজেন বিস্ফোরিত হয়েছিল বলে প্ল্যান্টের শ্রমিকদের এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ধারণা।

৪ মার্চ সীতাকু-ের কদমরসুল এলাকায় সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে সাতজনের মৃত্যু এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত