শর্ত ভঙ্গ করায় মাছের অভয়ারণ্য তৈরির অনুমোদন বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. রফিকুল আলম। গত শুক্রবার দৈনিক দেশ রূপান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় ‘হবিগঞ্জের গুঙ্গিয়াজুরী হাওর, মাছ রক্ষার নামে বালুর কারবার’ শীর্ষক প্রতিবেদন ছাপা হয়। পরদিন ‘দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের’ শিরোনামে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে পত্রিকাটি।
হাওরে মাছের অভয়ারণ্য তৈরির জন্য ১৪ দশমিক ৭৬ একর জমির মাটি কেটে চারদিক উঁচু করার অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন জেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম। বাহুবল উপজেলা প্রশাসনের সুপারিশ পেয়ে গত ১৫ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক কার্যালয় উত্তোলিত বালু ও মাটি খননকৃত এলাকায় সংরক্ষণ করা, পার্শ¦বর্তী জমির ক্ষতি না করা, বালু ও মাটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার না করা, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা ২০১০ আইন মেনে কাজ করার শর্ত দিয়ে আবেদনটির অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতি পাওয়ার পর স্নানঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মৎস্যজীবী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম ও তার লোকজন ঢাকার মুন্সীগঞ্জ থেকে বড় ড্রেজার মেশিন এনে কয়েক কিলোমিটার লম্বা পাইপলাইন স্থাপন করেন। স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেন ড্রেজার মেশিন ও পাইপলাইন স্থাপন করতে গিয়ে হাওরের বোরো ফসল ও সাবমারজিবল সড়কের ব্যাপক ক্ষতি করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।
গত ২ মার্চ গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে সমুদ্রফেনা মৌজার ‘খাইজ্জাউড়ি’ এলাকা সরেজমিনে দেখার পর প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশ রূপান্তর। এরপর মাছের অভয়ারণ্য তৈরির অনুমোদন বাতিল করে জেলা প্রশাসন। এদিকে অনুমোদন বাতিল হওয়ার পর মৎস্যজীবী নেতা তাজুল ইসলাম পুনঃঅনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসকের অফিস, সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হাওর থেকে মেশিন ও পাইপলাইন সরানো হয়নি।
