পরিবারের জন্য ব্যয়ের সওয়াব

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৩, ১২:৫৩ এএম

পরিবার-পরিজনের জন্য উপার্জন ও খরচ করা যে ইবাদতের অংশ, তা অনেকেই জানেন না। অনেকে মনে করেন, ঘরের বাইরে যা ব্যয় করা হবে, তাতে সওয়াব মিলবে। আর ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের জন্য যে সম্পদ খরচ করা হবে, তাতে কোনো সওয়াব নেই। এমন ধারণা ভুল। হাদিসে বলা হয়েছে, সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যয় হচ্ছে ওই ব্যয়, যা নিজ স্ত্রী ও বাচ্চাদের জন্য করা হবে। শর্ত হচ্ছে তাতে সীমালঙ্ঘন করা যাবে না।

পরিবারের জন্য সাধ্যমতো খরচ করা আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অপচয় করা যাবে না। পাশাপাশি কৃপণতাও করা যাবে না। বরং তাদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করতে হবে। এটিই ইসলামের শিক্ষা। ইসলাম শিক্ষা দেয়, মুমিনের সব কাজই ইবাদত; যদি তা হয় আল্লাহর হুকুম এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত মোতাবেক। একজন মানুষের জন্য নামাজ, রোজা যেমন ইবাদত, তেমনি সংসার করাও ইবাদত। পরিবারের লোকদের জন্য খরচ করাও ইবাদত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, সওয়াবের আশায় কোনো মুসলমান যখন তার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করে, তা তার সদকা হিসেবে গণ্য হয়। সহিহ মুসলিম : ১০০২

পরিবারের জন্য খরচ করলে মহান আল্লাহ যেমন রিজিকে বরকত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তেমনি পরিবারের জন্য উপার্জনরত ব্যক্তিকেও তিনি দিয়েছেন মুজাহিদের মর্যাদা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, বিধবা ও মিসকিনের জন্য খাদ্য জোগাড় করতে চেষ্টারত ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের মতো অথবা রাতে নামাজে দণ্ডায়মান এবং দিনে রোজা পালনকারীর মতো। সহিহ বোখারি : ৫৩৫৩

কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিবারের লোকদের স্বাবলম্বী করাকে সদকা করার চেয়েও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সদকার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে স্ত্রীর মুখে ভালোবেসে তুলে দেওয়া একলোকমা খাবারকেও। হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি মক্কায় রোগগ্রস্ত হলে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার শুশ্রুষার জন্য আসেন। আমি বললাম, আমার তো সম্পদ আছে। সেগুলো আমি অসিয়ত করে যাই? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, এক-তৃতীয়াংশ করতে পারো। আর এক-তৃতীয়াংশই তো বেশি। ওয়ারিশদের মানুষের কাছে মুখাপেক্ষী অবস্থায় (মানুষের কাছে হাত পেতে পেতে ফিরবে) ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে তাদের বিত্তবান অবস্থায় রেখে যাওয়া উত্তম। আর যা-ই তুমি খরচ করবে, তা-ই তোমার জন্য সদকা হবে; এমনকি যে লোকমাটি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দেবে, সেটাও। সম্ভবত আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করবেন। তোমার দ্বারা অনেক লোক উপকৃত হবে, আবার অন্যরা (কাফের সম্প্রদায়) ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সহিহ বোখারি : ৫৩৫৪

দেখুন আল্লাহতায়ালা আমাদের কত চমৎকার একটি দ্বীন দান করেছেন। যে খরচ আমাদের দায়িত্ব, সেই খরচেরও উত্তম প্রতিদান তিনি আমাদের জন্য রেখেছেন। আল্লাহতায়ালা সবাইকে পরিপূর্ণরূপে দ্বীন মানার তওফিক দান করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত