চন্দিকা হাথুরুসিংহে আয়ারল্যান্ডকে বলেছিলেন বিপজ্জনক দল। সাধারণত লাল রংকে ধরা হয় বিপদ সংকেত আর সবুজকে নিরাপদ। সবুজ জার্সির আইরিশদের হাথুরুসিংহে বিপজ্জনক ভেবেছিলেন তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের জোরে। উইন্ডিজের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে আয়ারল্যান্ড, দেশে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটাতেও করেছিল জোর লড়াই। তবে সিলেটের সবুজে আইরিশদের বিপজ্জনক হয়ে উঠতে দেয়নি বাংলাদেশ, বরং নিজেদের সর্বোচ্চ ওয়ানডে রানের ইনিংস খেলার দিনে ১৮৩ রানের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তামিম ইকবালের দল যা ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়। দিনকয়েক ধরেই সিলেটের আকাশ মেঘলা। চৈত্রের সন্ধ্যাতেও বাতাস হালকা কাঁপন ধরায় শরীরে। সব মিলিয়ে বিপদের গন্ধ তো ছিলই, বিশেষ করে আইরিশরা প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাদশ দলকে হারিয়ে দেওয়ার পর সতর্ক না হয়ে উপায় নেই। তবে ইংল্যান্ডকে ঘরের মাঠে ৩-০তে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ করা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনোবল এখন তুঙ্গে। তাদের সামনে আইরিশরা উড়ে গেছে খড়কুটোর মতোই। দুদলের শক্তির ব্যবধানের স্পষ্ট দৃষ্টান্ত রেখেই ম্যাচটা জিতেছে বাংলাদেশ।
অ্যান্ডি বালবার্নি টস জিতে তামিম ইকবালকে জানিয়েছেন ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ। লিটন দাস আর তামিম মিলে শুরুটা ভালো করেননি। ৯ বলে ৩ রান করে তামিম নিজেই ড্রেসিং রুমে ফিরেছেন সবার আগে। লিটন শুরুটা ভালোই পেয়েছিলেন, কিন্তু ৩১ বলে ২৬ রান করার পর দ্বিধাগ্রস্ত মনে অদ্ভুত এক শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। নাজমুল হোসেন শান্তও ২৫ রান করে বালবার্নির বলে বোল্ড। ১৬.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৮১ রান বাংলাদেশের, এখান থেকে খুব বেশিদূর যাওয়াটা কঠিন। সেই কঠিন কাজটাই সহজভাবে করে দেখালেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ আর একদম অনভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের একজন, কাল পৌঁছেছেন ৭০০০ রানের মাইলফলকে। আর তৌহিদ হৃদয়ের ওয়ানডে অভিষেক হল কালই। দুজনে মিলেই আইরিশদের ‘বাংলা’ শেখালেন! ৫ম উইকেটে দুজনের ১২৫ বলে ১৩৫ রানের জুটি হলো। সাকিব আর হৃদয় দুজনেই শতরানের দোরগোড়ায় গিয়ে আউট হলেন। মুশফিকুর রহিমও ২৬ বলে করলেন ৪৪ রান। শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় রানটা প্রত্যাশিত জায়গায় না গেলেও ৮ উইকেটে ৩৩৮ রান করে নিজেদের সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংসের মাইলফলকে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
বড় রান তাড়ায় শুরুটা ভালোই করেছিল আয়ারল্যান্ড। প্রথম ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৫১ রান। কিন্তু এরপর উইকেট পড়ল নিয়মিতই। শুরুতে স্টিফেন ডোহেনি, সাকিবই এনে দেন ব্রেক থ্রু। এরপর বিপজ্জনক পল স্টার্লিংকে ফেরান এবাদত হোসেন। পরপর দুই ওভারে দুজন হারানোর ধাক্কাটা সামলে ওঠার আগেই এবাদতের আবার আঘাত, এবার হ্যারি ট্যাক্টর। তাসকিন বোল্ড করেন আইরিশ অধিনায়ককে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো আইরিশরা আর পারেনি ঘুরে দাঁড়াতে। ৩০.৫ ওভারে ১৫৫ রানেই অলআউট আয়ারল্যান্ড। সিলেটের দুই বোলার নাসুম ও এবাদত নিজেদের শহরের মাঠে যেন জ্বলে উঠলেন। এবাদত নিয়েছেন ৪ উইকেট আর নাসুম নিলেন ৩ উইকেট।
ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে কাল বাংলাদেশ জানান দিল, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই তারা খেলেছে বড় দলের মতোই। প্রথাগত পারফরমারদের বাইরে ভালো করেছেন তরুণরাও। শুরুর বিপদ কাটিয়ে ম্যাচে ফেরার পর এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি বাংলাদেশ ম্যাচটা হারতে পারে। বড় জয়ে অবদান রেখে তৌহিদ হৃদয়-এবাদত হোসেনরা যেন জানিয়ে দিলেন, এখন ছোট দলকে ভয় করার দিন আর নেই।
