আরাভ নামে কাউকে চিনি না : বেনজীর

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৩, ০৬:১৪ এএম

পুলিশ খুনের আসামি আরাভ খান কীভাবে ঢাকায় পুলিশ হত্যা করে দেশের বাইরে গেল, কীভাবে ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে দুবাই গেল, এত টাকার উৎস কীÑ চলছে নানা গুঞ্জন। আর এ সময়ই আরাভকে চিনেন না দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

গতকাল শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই পোস্ট দেন বেনজীর। বেনজীর ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‌্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন।

বেনজীর তার পোস্টে লিখেছেন, ‘সম্মানিত দেশবাসী, আমি আপনাদের সবাইকে আশ্বস্ত ও সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে চাই যে আরাভ ওরফে রবিউল ওরফে হৃদয় নামে আমি কাউকে চিনি না। আমার সঙ্গে তার এমনকি প্রাথমিক পরিচয়ও নাই। আমি আমার ল’ এনফোর্সমেন্ট ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় খুনি, সন্ত্রাসী, ড্রাগ ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, ভেজালকারী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, কখনোই সখ্য নয়। আপনাদের অফুরান ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা।’

সম্প্রতি দুবাইয়ের গহনার দোকান আরাভ জুয়েলার্সের উদ্বোধনে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, আলোচিত ইউটিউবার হিরো আলমসহ বিনোদন জগতের তারকাদের অংশগ্রহণের মধ্যে প্রকাশ পায় যে এর মালিক আরাভ খান দেশে পুলিশ হত্যার আসামি।

জানা গেছে, এসবির পরিদর্শক মামুন ২০১৮ সালে রহমত উল্লাহ নামের এক ব্যক্তির আমন্ত্রণে বনানীর একটি বাড়িতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, মামুনকে ফাঁদে ফেলে বনানীর ওই বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। তাকে ফ্ল্যাটে নিয়ে বেঁধে, স্কচটেপ দিয়ে মুখ আটকে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে মামুন মারা যান।

পরে গাজীপুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে বনানী থানায় হত্যা মামলা করে পরিদর্শক মামুনের পরিবার। এতে রহমত উল্লাহ, রবিউল ইসলাম, সুরাইয়া আক্তার কেয়া, স্বপন সরকার, দিদার পাঠান, মিজান শেখ, আতিক হাসান, সারওয়ার হোসেন, মেহেরুন্নিসা ওরফে স্বর্ণা ও ফারিয়া বিনতে মাইসাকে আসামি করা হয়। ২০১৯ সালে মামলাটির তদন্ত শেষে রহমত উল্লাহ এবং রবিউল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সেখানে রবিউল ইসলামকে পলাতক উল্লেখ করা হয়।

এদিকে আরাভকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে সহযোগিতা করছেন বলে দাবি করেছেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। আরাভ জুয়েলার্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দুবাইতে আছেন তিনি। আজ রবিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। গতকাল তিনি দুবাই থেকে গণমাধ্যমে বলেছেন, খুনের মামলায় অভিযুক্ত একজন আসামিকে এত দিন খুঁজে না পাওয়া বা গ্রেপ্তার করতে না পারার ব্যর্থতা পুলিশের। আমরা তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে সহযোগিতা করেছি। আমরা ফেসবুকে পোস্ট না দিলে, দুবাই না গেলে আরাভ খানের আসল পরিচয় কেউ জানত না। আমাকে ও সাকিব আল হাসানকে পুরস্কৃত করা উচিত।

পুলিশ বলছে, সাকিব আল হাসান ও হিরো আলম জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। যেকোনো মামলা তদন্তের প্রয়োজনে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পারে। কিন্তু পুলিশ খুনের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটার ও আমার সংশ্লিষ্টতা কোথায়, সেটা আগে পুলিশকে বলতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত