ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের শান্তিনিকেতনের বাড়ি ‘প্রতীচী’ নিয়ে যে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল সেই জটিলতা কেটেছে। উচ্ছেদ নোটিশ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বাবা আশুতোষ সেনের নামে থাকা জমি অমর্ত্যের নামে করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
গত কয়েক মাস ধরেই অমর্ত্য সেন এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে ওই বাড়ির ১৩ শতক জমি নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। বাড়িটির নামজারি করতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে উভয় পক্ষ হাজির হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। ঠিক তারপরেই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে উচ্ছেদের নোটিশ পাঠানো হয়। তবে নামজারির আগেই কেন উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (২০ মার্চ) ফাঁস হওয়া একটি নথিতে দেখা যাচ্ছে, বোলপুর ব্লকের সুরুল মৌজার ১৯০০/২৪৮৭ দাগ এবং খতিয়ান নম্বর ২৭০-এর জমিটি অমর্ত্য সেনের নামে রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই নথিতে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১.৩৮ একর। যদিও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নথির সত্যতা যাচাই করেনি।
তবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে, ১৯৪৩ সালে আশুতোষ সেনকে ১.৩৮ একর জমি লিজ দেওয়া হয়নি। ১.২৫ একর জমি লিজ দেওয়া হয়েছিল। তার ভিত্তিতে বিশ্বভারতী অমর্ত্য সেনের বিরুদ্ধে ১৩ ডেসিমেল জমি দখলের অভিযোগ করেছে।
শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের বাড়িটি বিশ্বভারতীর মালিকানাধীন জমিতে তৈরি। এরই মাঝে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে তিন পাতার নোটিশ পাঠানো হয় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে। এতে বলা হয়, ২৪ মার্চ বা তার আগে শোকজ নোটিশ পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হবে, কেন অমর্ত্য সেনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের উচ্ছেদ আইন প্রয়োগ করা হবে না। কারণ তিনি অন্যায় ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ডেসিমেল জায়গা দখল করে আছেন।
চিঠিতে ২৯ মার্চ বিকেলে অমর্ত্য সেনকে সশরীরে অথবা তার কোনো প্রতিনিধিকে পাঠিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম কর্মসচিব তথা এস্টেট অফিসারের (যার সই রয়েছে নোটিশে) সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। বীরভূমের জেলা প্রশাসক বিধান রায়ের মতে, অর্থনীতিবিদের নামে জমিটির নামজারি হওয়ায় বিশ্বভারতীর উচ্ছেদ নোটিশ অর্থহীন হয়ে গেছে। যদিও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিশ্বভারতী।
