দুর্নীতি কমালে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে : হাস

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৩, ০২:০৮ এএম

বাংলাদেশে দুর্নীতি কমানো গেলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এ দেশ থেকে অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক অপরাধের মতো বিষয়ে দুদেশের সরকার একসঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) দুর্নীতিবিষয়ক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে পিটার হাস এসব কথা বলেন। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) দুর্নীতির ওপর এই গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

পিটার ডি হাস বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি দুর্নীতির লাগাম টানা যায়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন। তাতে বাড়বে বিদেশি বিনিয়োগ। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুশীলসমাজ ও গণমাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক অপরাধ ও অর্থ পাচারের মতো বিষয় অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এ দেশের জনগণ ও সরকারকে দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত।’

ব্যবসা-বাণিজ্যের দুর্নীতির লাগাম টানার পরামর্শ দিয়ে পিটার হাস আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মতো খাতে ভালো করতে দুর্নীতির লাগাম টানতে হবে। প্রয়োজনে দেশের গণমাধ্যম ও সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদেরও সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় নয় বরং কীভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা যায়, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কাজ করা দরকার।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সালেহ জহুর বলেন, গবেষণায় উঠে এসেছে এসএমই খাতের ব্যবসা পরিচালনা অবকাঠামোগত সমস্যা আছে। এ খাতে ঋণের প্রবাহ ঠিক নেই। এসব ব্যবসায়ীর অনেকের প্রযুক্তি জ্ঞানও সীমাবদ্ধ। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যবসায়ীকে নানা সময় ঘুষ দিতে হয়। ৬০ দশমিক ১ শতাংশ রাজনৈতিক প্রভাব ও ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির শিকার হন।

অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সিজিএসের উপদেষ্টা ও এসএমই-সংক্রান্ত গবেষণা দলের প্রধান আলী রিয়াজ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন।

বক্তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নানা নিয়মনীতি দুর্নীতিকে উসকে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব আছে বলে মনে করেন অনেকে। সরকার আইন করলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন তার ভূমিকা পালন করছে না। এসব কারণে দুর্নীতি কমছে না। তাতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিশেষত, এসএমই খাতের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনায় নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত