পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুরে ইমাদ পরিবহন দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহতের ঘটনায় তিন কারণ শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসকের তদন্ত কমিটি। গতকাল বুধবার তদন্ত কমিটির প্রধান মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব কুমার হাজরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া তদন্ত কমিটি ১৪টি সুপারিশ করেছে দুর্ঘটনা রোধে। এর মধ্যে সব পরিবহনে সিট বেল্ট বাঁধার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উল্লেখযোগ্য।
প্রতিবেদনে তিনটি কারণের প্রথমটি গাড়ির গতিসীমা ও গাড়ির ফিটনেস ছিল না; দ্বিতীয়টি চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল মিডিয়াম গাড়ি চালানোর কিন্তু সে চালিয়েছে ভারী যান এবং তৃতীয়টি প্রাকৃতিক। দুর্ঘটনার আগে বৃষ্টির কারণে সড়ক ভিজে ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব কুমার হাজরার নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির অন্যরা হলেন মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির (পিপিএম), বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক শাহনেওয়াজ হাসানাত-ই-রাব্বি ও মাদারীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হোসেন। এ ছাড়াও বুয়েটের একটি প্রতিনিধিদল কার্যক্রম শুরু করেছে। কমিটি প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় দোকানদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে। এ ছাড়াও কমিটি দুর্ঘটনাকবলিত বাস, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
গত রবিবার ভোরে খুলনা থেকে যাত্রীবোঝাই করে ইমাদ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-৩৩৪৮) ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটি গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়া থেকে ১৫ জন যাত্রী তোলে। পদ্মা সেতুর আগে ঢাকা-খুলনা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর সীমানা এলাকায় এলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। বাসটি এক্সপ্রেস হাইওয়ের নিচের আন্ডারপাসের গাইড ওয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন নিহত হয়। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের।
