কারাগার থেকে ফোনে বিচারককে হুমকি

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৩, ০৪:৫৫ এএম

গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফোন করে একজন বিচারক ও সচিবকে ‘জেল খাটানো’র হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বন্দির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বন্দি আমান উল্লাহ চৌধুরীকে পৃথক সেলে নজরদারিতে রেখেছে কারাগার

কর্র্তৃপক্ষ। এদিকে কারাগার-১ এ বন্দি আমানের স্ত্রী নুসরাত জাহান কারা কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, দুই অভিযোগেরই তদন্ত হচ্ছে। 

কাশিমপুর কারাগার সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত আমান উল্লাহ চৌধুরী ঢাকার ধানম-ি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। গুলশান থানার একটি মামলায় তিনি ২০২২ সালের ১৫ মে থেকে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমান উল্লাহ চৌধুরীকে ২০২১ সালে আগস্ট মাসে গুলশান থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পাঠানো। পরে কারা কর্র্তৃপক্ষ ২০২২ সালের ১৩ মে তাকে গাজীপুর কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করে। 

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহজাহান আহমেদ জানান, বন্দি আমান উল্লাহ সম্প্রতি কারাগারের সরকারি ফোন থেকে একজন বিচারক ও একজন যুগ্মসচিবকে জেল খাটানোর হুমকি দেন। পরে ওই দুই কর্মকর্তা কাশিমপুর কারা কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কারা কর্র্তৃপক্ষ কর্তৃক কারাবিধি মোতাবেক ওই বন্দিকে পৃথক সেলে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনার পর কারা কর্র্তৃপক্ষ আমান উল্লাহ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ফোনে হুমকি প্রদানের কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে আমান উল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী নুসরাত জাহান গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে দাবি করেছেন, তার স্বামীকে নির্যাতন থেকে বাঁচতে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার পর আরও দশ লাখ টাকা দাবি করে কারা কর্র্তৃপক্ষ। অভিযোগের কপি কারা সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। তবে কারা কর্র্তৃপক্ষ ঘুষ নেওয়া ও টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগে নুসরাতের দাবি করেন, গত ৭ মার্চ আমান আদালতে হাজিরা দিয়ে কাশিমপুর জেল হাজতে ফিরলে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় রাতে চিত্রা ভবনের ৩৮ নম্বর রুম থেকে আমানকে নিচ তলার ফাঁসির সেল ‘০’ নম্বর রুমে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়।

এ বিষয়ে জেল সুপার মো. শাহজাহান বলেন, অনেক বন্দি কারা কর্র্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময় অযৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা দাবি করেন। তাদের সে সুযোগ না দিলে কারা কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা প্রকার রটনা রটায়। যার কোনো সত্যতা ও ভিত্তি নেই।

আমান উল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রীর অভিযোগ সম্পর্কে গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগকারী ওই নারী যে ধরনের অভিযোগ তুলেছেন, তার সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত