বগুড়ার সেই বিচারক প্রত্যাহার

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৩, ০৫:২১ এএম

বগুড়ায় স্কুলশিক্ষার্থীর মাকে পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার ঘটনায় অভিযোগ ওঠা জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিনকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রুবাইয়া ইয়াসমিনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, বদলিসংক্রান্ত সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট একমত পোষণ করে।  

বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মাকে এক বিচারক তার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছেন এমন অভিযোগে গত মঙ্গলবার স্কুলের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিনের মেয়ে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী, সব শিক্ষার্থীর পালাক্রমে শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার কথা থাকলেও বিচারকের মেয়ে কখনোই তা করে না। নিজেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মেয়ে পরিচয় দিয়ে সে শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওইদিন রাতে বিচারকের মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সহপাঠীদের বস্তির মেয়ে উল্লেখ করে পোস্ট দিয়ে বলে, ‘তোরা বস্তির মেয়ে। আমি জজের মেয়ে, আমি ভাব দেখাব, পারলে মায়েদের বল আমার মায়ের মতো জজ হতে।’ ওই পোস্টে বিচারকের মেয়ের চারজন সহপাঠী পাল্টা উত্তর দেয়। এই নিয়ে বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুনকে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডাকতে বলেন। ওইদিন বেলা ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষকের ডাকে ওই চার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে আসেন। ওই সময় বিচারক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেন। এ সময় দুই অভিভাবককে বিচারকের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।

এ বিষয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। যতটুকু জেনেছি সোমবার বিচারিক কর্মকর্তার মেয়ের ঝাড়ু দেওয়ার কথা ছিল। তবে সে তিন মাস আগে স্কুলে আসায় এই পরিবেশ হয়তো বুঝে উঠতে পারেনি। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে ডাকা হয়। তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়। কিন্তু অভিভাবকের মাফ চাওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে। অভিভাবকরা ভয় পেয়ে মাফ চেয়েছেন। তাদের কেউ বাধ্য করেনি। এ ঘটনায় বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নিলুফা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত