টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভাধীন এলেঙ্গা হাট-বাজারের ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করেছেন হাটের ইজারাদার মুক্তার আলী।
জানা যায়, গত ২ মার্চ এলেঙ্গা পৌরসভা এলেন/পৌর/প্রবি/হাট-ইজারা/২০২৩/৭৭২ নং স্মারকে হাট-বাজার ইজারা দরপত্র বিজ্ঞপ্তি (০১/২০২২/২৩) আহ্বান করে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সোমবার (২০ মার্চ) বেলা ২টা পর্যন্ত দরপত্র জমার শেষ সময় ও বিকেল ৩টায় জমাকৃত দরপত্রের বাক্স খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বিকেল ৪টার পরে ওই দরপত্র বাক্স খোলা হয়। বর্তমান ইজারাদার মুক্তার আলী ৪৫ লাখ ৫০০ টাকা পে অর্ডার কেটে যথাসময়ে দরপত্র জমা দেন।
অপরদিকে, মাজেদুর রহমান ও রেজাউল করিম নামে যিনি হাটের ইজারা পেয়েছেন তিনি নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পর ব্যাংক পে অর্ডার করে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে দরপত্রটি জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমান ইজারাদার মুক্তার আলী বলেন, এলেঙ্গা হাট-বাজারের দরপত্র আহ্বানের পর শর্তানুসারে আমি দরপত্র পূরণ পূর্বক ৪৫ লাখ ৫০০ টাকার পে অর্ডার দিয়ে বাঁধা বিপত্তি সত্বেও নির্ধারিত সময়ের আগেই দরপত্রটি জমা দেই। কিন্তু যিনি হাটের ইজারা পেয়েছেন তিনি নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পরে ৪৫ লাখ ৫ হাজার টাকার পে অর্ডারসহ দরপত্র জমা দিয়ে রহস্যজনক কারণে কার্যাদেশ পেয়েছেন। এছাড়াও নিয়ম বর্হিভূতভাবে ব্যাংকে দু’জনের নামে পে অর্ডার জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাননি বলে জানান তিনি।
এলেঙ্গা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আহম্মেদ আব্দুল্লাহ্ জানান, দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরপত্র বাক্স দুপুর ২টায় বন্ধ করার কথা এবং বিকেল ৩টায় দরপত্র সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে খোলার কথা। কিন্তু পৌর মেয়র আসতে দেরি করায় ৪টার দিকে দরপত্র খোলা হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, ডিসি অফিসে কর্মব্যস্ত থাকায় তিনি পৌরসভায় আসতে দেরি করেছেন। উপস্থিতদের সম্মতিক্রমে দেরিতে দরপত্র খুলে সর্বোচ্চ দর দাতাকে হাট-বাজারের ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান।
একই পে অর্ডারে দুই ব্যক্তির নাম ব্যবহারে দরপত্রের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি বলেও জানান তিনি।
