চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের উপনির্বাচনে ‘নৌকা’ প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহীদের অনেকেই অবস্থান করছেন ঢাকায়। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী ২৭ জনের কার হাতে যাবে নৌকার বৈঠা, তা জানা যাবে আজ শনিবার।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে আজ শনিবার সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভাতেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।
এখন পর্যন্ত আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, প্রয়াত সাংসদ মোসলেম উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী শিরীণ আহমেদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি এস এম আবুল কালাম ও আরেক প্রয়াত এমপি মাঈনুদ্দিন খান বাদলের সহধর্মিণী সেলিনা খান।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ এপ্রিল ওই আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিতে গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়। তিন দিনে ২৭ জন মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেন।
স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মাত্র ছয় মাস মেয়াদের জন্য অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাকর্মীর রেকর্ড হয়েছে। আসনটিতে অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কিংবা উপনির্বাচনে কখনো এত বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশী দেখা যায়নি। এবার মনোনয়ন ফরম গ্রহণকারীদের মধ্যে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী যেমন রয়েছেন, তেমনি অতীতের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন লোকজনও রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে অল্প কয়েকজনকে ঘিরেই চলছে নানা আলোচনা।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম বিগত সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু আসনটি মহাজোটের শরিক দল জাসদের মাঈনুদ্দিন খান বাদলকে ছেড়ে দেওয়ায় ওই সময় তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হন। বাদলের মৃত্যুর কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে উপনির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন ছালাম। কিন্তু দল থেকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদকে সেখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
প্রয়াত এমপি মোসলেম উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী শিরীণ আহমদের নামও রয়েছে আলোচনায়। মনোনয়নপত্র বিতরণের দ্বিতীয় দিন বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সঙ্গে নিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি আলোচনার শীর্ষে চলে আসেন।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি এস এম আবুল কালাম ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু ওই সময় তিনি বিএনপি প্রার্থী এম মোর্শেদ খানের কাছে হেরে যান।
প্রয়াত সংসদ সদস্য বাদলের মৃত্যুর পর ২০২০ সালের উপনির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়েছিলেন তার সহধর্মিণী সেলিনা খান। এবারও মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে কারও মনোনয়নের জন্য প্রস্তাব করিনি। দলের মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আজ সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তা চূড়ান্ত করে সভা শেষে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।’ তিনি বলেন, মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ২৭ জনের মধ্যে মনোনয়ন পাবেন তো একজন। তাই দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে।
আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি, মো. সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, আশেক রসুল খান, এস এম কফিল উদ্দিন, এটিএম আলী রিয়াজ খান, মোহাম্মদ জাহেদুল হক, জহুর চৌধুরী, সুকুমার চৌধুরী, হায়দার আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মনছুর আলম, আহমেদ ফায়সাল চৌধুরী, বিজয় কুমার চৌধুরী, মো. আবু তাহের, কফিল উদ্দিন খান, মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, মো. এমরান, মোহাম্মদ আবদুল কাদের, এ এ নুরুল ইসলাম, মো. মাহবুব রহমান এবং মো. আরশেদুল আলম।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন আহমদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান। বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার দলীয় সিদ্ধান্ত থাকায় এবারের নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকছে না বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।
