বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ ফ্রান্স

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৩, ০১:৫৭ এএম

ফ্রান্স সরকারের প্রস্তাবিত অবসর নীতিমালার বিরুদ্ধে তিন মাস ধরে চলমান বিক্ষোভে নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে প্রায় ১৫০ পুলিশ সদস্যসহ অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে কয়েকশ’ বিক্ষোভকারীকে। কেবল প্যারিসে প্রায় ১৪০টি জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফ্রান্স সরকারের প্রস্তাবিত অবসর নীতিমালার বিরুদ্ধে তিন মাস ধরে চলমান বিক্ষোভে এটিকে সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা। ওই দিন রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অগ্নিসংযোগ করেছেন। এদিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছেন এবং লাঠিপেটা করেছেন।

গত জানুয়ারির মাঝামাঝিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারি কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার বয়স বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। অবসরের বয়স ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার পরিকল্পনা হয় এবং পার্লামেন্টে কোনো ধরনের ভোটাভুটি ছাড়াই এ সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এর প্রতিবাদে তিন মাস ধরে ফ্রান্সের রাস্তায় বিক্ষোভ চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন বলেছেন, ফ্রান্সজুড়ে বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪৯ সদস্য আহত হয়েছেন। কমপক্ষে ১৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু প্যারিস থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭২ জন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় ১০ লাখ ৮৯ হাজারের মতো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শুধু প্যারিসে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার মানুষ। গত জানুয়ারিতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এটি ছিল রাজধানী শহরটিতে সবচেয়ে বড় জমায়েত।

নিজস্ব সাংবাদিকদের বরাতে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারিসে কয়েকশ কালো পোশাকধারী উগ্রপন্থি বিক্ষোভকারী ব্যাংক, দোকান ও ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর জানালা ভেঙে ফেলেছেন এবং সড়কে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট করেছেন।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিলে শহরের স্থানীয় পুলিশপ্রধান থিয়েরি কোর্তেকুইসে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরের আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা প্যারিসের গ্যারে দে লিয়ন স্টেশনের রেলপথ দখল করে রেখেছিলেন। চার্লস দ্য গল বিমানবন্দরে চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

গত বুধবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অবসরকালীন সংস্কারকে জরুরি বলে উল্লেখ করার পর বিক্ষোভকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এ সংস্কার করতে গিয়ে তার জনপ্রিয়তা কমে গেলেও তিনি তা মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন। এর আগে গত রবিবার এক জরিপে দেখা গেছে, ম্যাক্রোঁর জনপ্রিয়তা ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত