ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মথুরাপুর পাবলিক হাই স্কুল। প্রায় শতবর্ষী স্কুলটির নাম-ডাক আছে জেলা জুড়েই। প্রতি বছর ভালো ফলাফলের সুনামও শোনা যায় স্কুলটির। তবে এবার স্কুলটির নাম ছড়িয়েছে ভিন্ন কারণে। ওই স্কুলটিতে এখন দশ জোড়া যমজ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই সময়ে এত বেশি যমজ ভাই-বোন দেখা যায় না।
বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করছে ১০ জোড়া যমজ ভাই-বোন। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুই জোড়া, সপ্তম শ্রেণিতে তিন জোড়া, অষ্টম শ্রেণিতে এক জোড়া, নবম শ্রেণিতে দুই জোড়া এবং দশমে দুই জোড়া ভাই-বোন রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে তাহসিন-তাসনিম ও সান-মুন, সপ্তম শ্রেণিতে কার্তিক-গণেশ, হাবিব-হাফিজ ও সুমাইয়া-সাদিয়া, অষ্টম শ্রেণিতে শুভ-সৌরভ, নবম শ্রেণিতে হাসি-খুশি ও তাহবি-তাসবি এবং দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেছে আবিদ-অমিত ও রাহুল রাহা-চঞ্চল রাহা।
সপ্তম শ্রেণির কার্তিক-গণেশের মধ্যে কার্তিক বড় হয়ে সেনাবাহিনীর অফিসার হয়ে দেশ সেবা করতে চায়। আর গণেশ হতে চায় চিকিৎসক। একই ক্লাসের সুমাইয়া-সাদিয়া দুজনই ডাক্তার হয়ে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে চায়। ষষ্ঠ শ্রেণির সান ও মুন এ বছর এই বিদ্যালয়ের ভর্তি হয়। তারা দুজনই বিজ্ঞানী হতে চায়। মহাকাশ ও মাটি নিয়ে গবেষণায় আগ্রহ তাদের।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রোজিনা পারভীন জানান, পাঁচ বছর আগে প্রথম দুই জোড়া যমজ ভাই এই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। তারা এখন দশম শ্রেণিতে পড়ে। এরপরের বছর আরও দুই জোড়া ভাই-বোন ভর্তি হয়। এভাবে প্রতি বছরই ভর্তি হয়েছে যমজ শিক্ষার্থী। এটা একটা চাঞ্চল্যকর ব্যাপার যে, প্রতি বছরই ভর্তি শিক্ষার্থীর মধ্যে যমজ শিক্ষার্থী থাকছে।
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, যমজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস করার আনন্দটাও আলাদা। তবে তাদের শনাক্ত করতে কিছু বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তারা সব সময় এক সঙ্গে বসে। তবে কোনো কিছু নিয়ে বিবাদ হলে তারা আলাদা বসে। এতে আমরা বুঝতে পারি দুজনের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, যমজ এই শিশুদের সঠিক দিকনির্দেশনার মধ্যে রাখতে পারলে তারাও দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।
