স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘এ দেশ স্বাধীন করতে যারা বিরোধিতা করেছে, ষড়যন্ত্র করেছে, এ দেশের মেধাবী চিকিৎসক, পেশাজীবীসহ বুদ্ধিজীবীদের নির্বিচারে হত্যা করেছে, যারা এ দেশটির স্বাধীনতাই চায়নি, তারাই এখন এ দেশের ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, তারা এর আগে একবার ক্ষমতায় গিয়েছিল। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা এ দেশের পতাকাকে পদদলিত করেছিল, অথচ তারাই তাদের গাড়িতে আমাদের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছিল।’
গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় জনসংখ্যা ও পুষ্টি ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়াম হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান আমাদের ধ্বংস করে, নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল। যুদ্ধকালীন দেশের চিকিৎসকদের মেরে ফেলা যায় না, নিয়ম নেই। অথচ সে সময়কার বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের হৃৎপিণ্ড উপড়ে নেওয়া হয়েছিল। চক্ষু বিশেষজ্ঞের চোখ তুলে নেওয়া হয়েছিল। সেই লাশগুলো পরে পাওয়া গেছে। যে লাশগুলো পাওয়া যায়নি, সেগুলোর আরও কত-কী করেছে। তারা দেশের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে, যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে বিরল। অথচ আজ তারাই এ দেশের ক্ষমতায় যেতে চায়।’
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করতে জিয়াউর রহমান নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন। শুধু তাদের সঙ্গে হাতই মেলায়নি, সেই পরাজিত বাহিনীর সঙ্গে একসঙ্গে রাজনৈতিক দল গঠন করে এ দেশের ক্ষমতায় বসেছে, এ দেশের কপালে কলঙ্কের দাগ লাগিয়ে দিয়েছে।’
সভায় বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মুহ. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বি এম খুরশীদ আলম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহান আরা বানু প্রমুখ।
