উদ্যোক্তা তৈরিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩, ১০:৪১ পিএম

চট্টগ্রামের মেরিন অ্যাকাডেমিতে বেড়ে ওঠা নিসর্গ নিগারের। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে স্নাতক অধ্যয়নরত থাকাবস্থায় চট্টগ্রামে গড়ে  তোলেন ‘চিজকেক টেকনোলজিস’ নামক প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ। এরপর ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন সিস্টেমসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে জার্মানির ইউনিভার্সিটি হামবুর্গ টেকনোলজিতে পাড়ি জমান। ফলে স্টার্টআপ-এর কাজে কিছুটা বাধা পড়ে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টার্টআপ ‘চিজকেক টেকনোলজিস’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি অ্যাস্ট্রোনমি বিষয়ে পিএইচডি করছেন কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে। তার সঙ্গে স্টার্টআপ বিষয়ে কথা বলেছেন অরণ্য সৌরভ

উদ্যোক্তা হওয়ার কারণ

নিসর্গ নিগার : ব্যবসায়ী না হয়েও বাবা-মা সমাজসেবা থেকে কখনো পিছপা হননি। সর্বস্তরের মানুষের জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর। তাদের থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই আমার উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু। স্বপ্ন দেখি এমন পৃথিবীর যেখানে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ থেকে সহজতর হবে, আমাদের মতো উদ্যোক্তার মাধ্যমে।

এর আগে

নিসর্গ নিগার : বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একজন সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। উদ্যোক্তা শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক শব্দ হতে পারে না। আমার বিশ্বাস, যারা নিষ্ঠা, সততা কিংবা পরিশ্রমের মাধ্যমে আশপাশের সবার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নেন তারা প্রত্যেকেই একেকজন চমৎকার উদ্যোক্তা।

উদ্যোক্তাদের প্রতিকূলতা ও উত্তরণ

নিসর্গ নিগার : উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথম পর্যায়ে সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের মানসিক ও আর্থিক প্রস্তুতি। পরিসংখ্যান বলে যে, কখনো কখনো একটি দুর্দান্ত পণ্য বাজারে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে, তবে এই বাধা অতিক্রম করার একমাত্র উপায় হলো নিজের ওপর আস্থা রাখা এবং পণ্যের অ্যাজিলিটি এবং অ্যাডাপ্টাবিলিটি নিশ্চিত করা।

দেশে উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনা কতটুকু

নিসর্গ নিগার : ডিজিটাল উদ্যোক্তারা মহামারী (কভিড-১৯) চলাকালীন অর্থনীতিকে উজ্জীবিত রাখতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি মহামারী পরবর্তী বিশ্বে বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের একটি প্রধান ইঞ্জিন হয়ে উঠতে পারে। পর্যাপ্ত মানবসম্পদ থাকলেও প্রয়োজনীয় কাঠামো এবং প্রশিক্ষণের অভাবে বৈশ্বিক মানদ-ে উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক নীতি এবং প্রণোদনা দ্বারা সক্ষম গঠনমূলক পরিবেশ থাকা দরকার।

স্টার্টআপ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নিসর্গ নিগার : আমরা বিশ্বাস করি সামনের পৃথিবীটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, ঐক্যের। সবাইকে এক করে একটা চমৎকার মেটাভার্স পৃথিবীর সবার জন্য উন্মুক্ত হোক এই নীতিতে এগিয়ে যেতে চাই।

স্টার্টআপ মানুষের যে সমস্যার সমাধান করবে

নিসর্গ নিগার : মেটাভার্স এমন একটি জগৎ যেখানে চাইলেই ভার্চুয়াল বিনোদন থেকে শুরু করে ঘুরে বেড়ানো, গেইমিং, শপিং সবই সম্ভব। তাছাড়া ক্রিয়েটর ইকোনমি এবং ডিসেন্ট্রালাইজ ব্যাংকিং সুবিধা বেড়ে উঠে বিশ্ববাজার অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তারপরও সমসাময়িক তথ্য ও গবেষণা বলছে, সভ্যতার উত্তরণের দীর্ঘ সময়ে মানুষ বর্তমানে সর্বাধিক বিষন্নতা ও একাকিত্বে ভুগছে। তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের স্টার্টআপ একটি স্বচ্ছ এবং নিরাপদ মেটাভার্স তৈরির পাশাপাশি আজকের বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

চাকরি না উদ্যোক্তা

নিসর্গ নিগার : দায়িত্ববোধকে! কারণ আপনি চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা কিংবা বাসায় অবস্থানকারী কেয়ারগিভার যেই হোন না কেন, যার যার অবস্থান থেকে আপনার ওপর আরোপিত দায়িত্বটুকু সততা এবং স্বচ্ছতা দিয়ে পালন করলেই সুন্দর পৃথিবী ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়া সম্ভব।

মার্কেটে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন

নিসর্গ নিগার : মার্কেটে টিকে থাকতে হলে বলব একজন উদ্যোক্তার গ্রোথ মাইন্ডসেট থাকার বিকল্প কিছুই নেই। পাশাপাশি ইউনিক সেলিং পয়েন্ট (Unique Selling Point), উদ্ভাবন, বাজারের আকার এবং বিজনেস ট্র্যাকশন traction) এই ধরনের বিষয়ে জ্ঞান থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত