গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল বাঁশতলা এলাকায় ৩২ জনের একদল হিজড়া বসবাস করেন। বিভিন্ন দোকানপাট, গাড়ি ও বাড়িতে ঘুরে ঘুরে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তায় চলত তাদের। সহায়তা হয়তো পেতেন তারা কিন্তু এতে মানুষ বিরক্ত হতো। বিষয়টি তাদেরও খারাপ লাগত। তাই হাত পাতার পেশা বাদ দিয়ে তারা এখন উৎপাদনমুখী হয়েছেন। হয়েছেন কর্মমুখীও। এখন আর চাঁদার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না তাদের। চলতি বছর তারা বাইমাইল এলাকায় ১৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন। সেখানে ধান, পেঁয়াজ, রসুন, মিষ্টি কুমড়া, টমেটোসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের আবাদ শুরু করছেন। নিজেরাই ফসলের পরিচর্যা করছেন। নিজেদের বাড়িতে করেছেন গরুর খামারও। তাদের এ উদ্যোগ এরই মধ্যে সবার নজর কেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ফয়সাল আহম্মেদ ও রমিজ উদ্দিন নামের দুই ব্যক্তি তাদের পরিত্যক্ত ১৩ বিঘা জমি বর্গা দিয়েছেন চাষবাস করতে। এজন্য তাদের কোনো টাকাপয়সা দিতে হয়নি। ওই জমিগুলো ছিল জঙ্গলে ভরা, চাষের অনুপযোগী। তবে হিজড়া সেই জমিকে চাষের উপযোগী করেন। সেখানে ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ এবং দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করেছেন।
হিজড়াদের দাবি, সাধারণ মানুষের মতো তাদেরও হাত-পা আছে। তারাও পরিশ্রম করতে পারেন। তাই তারা সাধারণ মানুষের মতো কর্ম করে চলতে চান। এজন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা তাদের প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তারা স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করে জীবনযাপন করতে পারবেন।
তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন এলাকায় অনেক জমি পরিত্যক্ত রয়েছে। ওইসব জমির মালিকরা যদি তাদের চাষাবাদের সুযোগ দিতেন তবে তারা ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আকারে ধানসহ কৃষি আবাদ করতে পারতেন। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও একই উদ্যোগ নিতেন।
শিল্পী নামে এক হিজড়া বলেন, ‘দেশের মানুষ দেখুক। আমাদের সহযোগিতা করলে আমরা কিছু করতে পারি। সমাজের মানুষ সুযোগ দিলে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। সময়মতো ধান কাটতে পারলে নিজেদের চাহিদা পূরণ হয়েও বাজারে বিক্রি করতে পারব।’
তিনি বলেন, মানুষের কাছে চেয়ে যা পাই এতে আমাদের চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে নানান চিন্তাভাবনা করে উদ্যোগ নিই। পাশাপাশি কৃষি আবাদও শুরু করি। পরে এ বছর বর্গা নিয়ে ১৩ বিঘা জমিতে ধান, পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল লাগিয়েছি।
গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজের অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায় কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে, যা একটি ভালো উদ্যোগ। আমরা কৃষকদের সরকারিভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে থাকি। হিজড়ারা যোগাযোগ করলে আমরা সবার মতো তাদেরও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করব। সমাজে তারা যেন স্বাভাবিক মানুষের মতো চলতে পারে এবং নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য তাদের কৃষিসংশ্লিষ্ট সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
