ইউরোপে সস্তায় পোশাক রপ্তানি বাংলাদেশের

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৩, ১২:১৭ এএম

ইউরোপের বাজারে সবচেয়ে সস্তায় পোশাক বিক্রির তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাকের প্রতি কেজি ১৭ দশমিক ২৭ ডলার দরে ইউরোপের বাজারগুলোতে বিক্রি করছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। অথচ বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ইউরোপের বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে পোশাক বিক্রি করছে। বাজারটিতে ভিয়েতনাম প্রতি কেজি পোশাক ৩০ দশমিক ৭৬ ডলারে রপ্তানি করছে, যা বাংলাদেশের চেয়ে ৭৮ শতাংশ বেশি। ইউরোস্ট্যাটের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে পোশাক বিক্রির এসব তথ্য উঠে এসেছে।

অবশ্য কাঁচামালের দাম বাড়ায় অন্যসব রপ্তানিকারক দেশের মতো বাংলাদেশের পোশাকের মূল্যও কিছুটা বেড়েছে। ইউরোপে ক্রয়াদেশ কমলেও বেশ কয়েক মাস ধরে উচ্চমূল্যের পোশাকের রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফলে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি রয়েছে বাংলাদেশের। ইউরোপে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।   

ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২২ সালে বাংলাদেশের চেয়ে সস্তা পোশাক বিক্রি করে উপমহাদেশের আরেক দেশ পাকিস্তান, প্রতি কেজি ১৪ দশমিক ৪৭ ডলারে। এরপরই বাংলাদেশের অবস্থান। প্রতি কেজি পোশাকের বৈশি^ক গড় রপ্তানি মূল্য হচ্ছে ২২ দশমিক ৪৮ ডলার। ইউরোপে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীনের পোশাকের মূল্য বৈশি^ক গড়ের চেয়ে সামান্য বেশি, প্রতি কেজি ২৩ দশমিক শূন্য ৯ ডলার। 

ইউরোপীয়রা সবচেয়ে দামি পোশাক কিনে থাকে ভিয়েতনামের কাছ থেকে। দামি পোশাক রপ্তানিতে এরপরের অবস্থান হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার। এ দেশের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৯ দশমিক ৮৮ ডলারে কেনে তারা। এদিকে বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক ইউরোপে রপ্তানি করেও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মরক্কো। ২০২২ সালে এ দেশটি ইউরোপে প্রতি কেজি পোশাক ২৯ দশমিক ৬৯ ডলারে রপ্তানি করে।

ইউরোপীয়রা ভারতীয় উপমহাদেশে সবচেয়ে বেশি দামে পোশাক কেনে শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে। এ দেশটির পোশাকের দর কেজিতে ২৮ দশমিক ৫৪ ডলারে কিনতে হয় পশ্চিমাদের। দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ ভারত প্রতি কেজি পোশাক রপ্তানি করে ২৩ দশমিক ২৭ ডলারে। অবশ্য বাংলাদশের পোশাকের দরও ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১১ দশমিক ৯৫ শতাংশ দাম বেড়েছে।

২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ সেখানে ২২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।

ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুসারে ২০২২ সালে সারা পৃথিবী থেকে ইইউ’র পোশাক আমদানি বেড়েছে ২০ দশমিক ৯৭ শতাংশ। প্রধানতম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সেখানে সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, সামগ্রিকভাবে ২০২২ সালে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেশ ভালো ছিল। কিন্তু ওই বছরের প্রথম ৬ মাস (জানুয়ারি-জুন) যেভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা গেছে, পরবর্তী ৬ মাসে তা অনেকটাই কমে এসেছে। এর মূল কারণ প্রথম ৬ মাস ছিল কভিড-১৯ পরবর্তী সময়। যার ফলে ক্রেতারা বেশি করে তখন পোশাক কিনেছে। এছাড়া চীনে লকডাউন থাকায় তখন আমরা ভালো করেছি।

তিনি বলেন, পরবর্তী ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং ইউরোপে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের চাহিদা কমতে শুরু করে। যার প্রভাব আমাদের রপ্তানিতেও পড়েছে। এছাড়া উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা এখন ইইউতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুসারে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২২ সালে চীন থেকে ইইউ’র আমদানি ছিল ৩০ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। ইইউ’র তৃতীয় বৃহত্তম পোশাক আমদানির উৎস তুরস্ক থেকে পোশাক আমদানি ১০ দশমিক  শূন্য ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমদানি ১১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে ইইউর আমদানি যথাক্রমে ২১ দশমিক শূন্য ২ এবং ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত