শেষ ম্যাচেও কোনো ছাড় নয়

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৩, ০১:০৬ এএম

‘বিদেশিরা তো ছাড় দেয় না, আমরা কেন ছাড় দেব।’ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে শেষে এমন বার্তা দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। হাসিমুখে দেওয়া সেই বার্তায় চরম কঠোরতা লুকিয়ে আছে। সেই কাঠিন্যের স্বাদটা আইরিশরা আজ শেষ টি-টোয়েন্টিতেও পেতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এ ম্যাচে বাংলাদেশ দলে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন সাকিব। তবে নতুনরাও যে আয়ারল্যান্ডের প্রতি কোনো ছাড় দেবে না সেই সতর্কতাও দিয়ে রেখেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মানে সহজ জয়ে টানা টি-টোয়েন্টিতে বিপক্ষকে টানা দ্বিতীয় হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যেই আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

একপেশে এ সিরিজে বাংলাদেশ টানা কিছু রেকর্ড গড়েছে টি-টোয়েন্টিতে। যা এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের নতুন খেলার ধরনকে ফুটিয়ে তুলেছে। সাকিব-লিটনরা প্রতি ম্যাচ পর তা বলে যাচ্ছেন বুক ফুলিয়ে। দারুণ দাপটের সঙ্গে ২-০ তে সিরিজে এগিয়ে থাকায় শেষ ম্যাচে কিছুটা ছাড় হবে কি না এমন প্রশ্ন করেছিলেন ধারাভাষ্য দিতে আসা সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার এইচডি আকারম্যান। হাসিমুখে সাকিবের উত্তর ছিল, ‘দেখুন আমরা আগে যখন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের বিপক্ষে খেলতাম ওরা ২-০ তে জেতার পরও শেষ ম্যাচে কোনো ছাড় দিত না। খেলাটাই এমন যে এখানে আবেগের কোনো সুযোগ নেই। তাহলে আমরা কেন আয়ারল্যান্ডকে ছাড় দেব।’

বাংলাদেশের ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ঘরের মাঠে নিজেদের যতটা সম্ভব শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রমাণ করতে সাকিবরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাছাড়া আইপিএলে খেলার প্রস্তুতির একটা ব্যাপারও আছে সাকিব-লিটনদের। আইপিএলের জন্য আজকের ম্যাচ খেলে রাতে ভারতে উড়াল দেবেন সাকিব-মোস্তাফিজ। লিটনের ব্যাপারে কাল পর্যন্ত বিসিবির কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। আয়ারলান্ডের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে আইপিএলের জন্য সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসটা ধরে রাখতে চান সাকিব-লিটনরা। এদিক থেকে লিটন সম্ভবত দারুণ সফল। পরপর দুই টি-টোয়েন্টিতে দুইশো স্ট্রাইকরেটে ব্যাট চালিয়েছেন এ ওপেনার। গত ম্যাচে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরিয়ানও হয়েছেন। প্রথমবার ডাক পাওয়া কলকাতা নাইট রাইডার্সে লিটনের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন দলটির আরেক বিদেশি উইকেটরক্ষক ব্যাটার আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তাকে পেছনে ফেলে একাদশে সুযোগ পেতে হলে এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংটাই করতে হবে। দুই ম্যাচে ওই কাজ করা লিটন আজও একই শুরু করে দেখাবেন।

লিটনের সঙ্গে জুটি হিসেবে বেশ জমে গেছেন রনি তালুকদার। তাদের দুজনের কীর্তিতে সম্ভবত প্রথমবার কোনো সিরিজে বাংলাদেশ মিডলঅর্ডার বা লেট অর্ডারদের কোনো ভূমিকা রাখতে হচ্ছে না ইনিংস গড়ায়। ৮ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাওয়া এই ওপেনার দারুণ স্বচ্ছন্দেই ব্যাট করছেন। ৫ ম্যাচে ১৬৫ রান করেছেন ৩৩ গড় ও ১৪৮ স্ট্রাইকরেটে। রনি জানালেন টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে পাওয়া স্বাধীনতায় এমন হাতখুলে খেলতে পারছেন। সামনের ম্যাচগুলোতেও এমনই হবে বাংলাদেশের খেলার ধরন, ‘আমাদের একটা পরিকল্পনা থাকে। তা হলো ইতিবাচক থাকা। যেন ইতিবাচক ইন্টেন্ট দেখাতে পারি। ড্রেসিংরুমে একটা পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছি তা হলো সবাই যেন ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারি। এটাই আমাদের মূল কাজ।’

ঠিক এক বছর আগে বিপিএলের পর মুনিম শাহরিয়ারকে নিয়েও টি-টোয়েন্টিতে অনেক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিকের চাপটা নিতে পারেননি ওই ব্যাটার। মুনিম শাহরিয়ারের মতো নন রনি।  দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে তৈরি ছিলেন। সুযোগ পাওয়ায় এখন আন্তর্জাতিকে নিজের উন্নতির ছাপ রাখছেন। এভাবে খেলে যেতে পারলে রনি ভালোভাবেই থাকবেন ২০২৪ বিশ্বকাপ পরিকল্পনায়। বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই না ভাবলেও এর আগে বাদ পড়বেন কি না সেই চিন্তা নেই রনির, ‘আমার এখন হারানোর কিছু নেই। আমি ৮ বছর আগে যেমন খেলেছি এখনো তাই খেলি। বিপিএলে যে কাজ করেছি তা এখানে (আন্তর্জাতিক) করার লাইসেন্স আমাকে দেওয়া হয়েছে। এখন এই বাদ পড়ার ভয় তাই কাজ করে না। আমি টিম ম্যানেজমেন্টের চাহিদামতো খেলছি।’

রনিরা টিম ম্যানেজমেন্টের চাহিদা পূরণ করছেন। দলও সমর্থকদের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে। দুই ওপেনারে দাপুটে পারফরম্যান্সে বাকি ব্যাটারদের বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে না। কাজটা শুধু বোলারদের। তাসকিন-সাকিব-হাসান মাহমুদরাও নিজেদের কাজ দারুণ ভাবে করে যাচ্ছেন। সাকিব তো গত ম্যাচে রেকর্ড গড়লেন টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ১৩৬ উইকেট নেওয়ার। সব মিলিয়ে দারুণ সুখী বাংলাদেশের সিরিজের শেষ ম্যাচে পাওয়ার কিছু নেই আরেকটি জয় ছাড়া। এই সুযোগে বেঞ্চের ক্রিকেটারদের দেখে নেওয়ার সুযোগ নিতেই পারে বাংলাদেশ।

এদিকে কোণঠাসা আইরিশরা একটি সম্মানের জন্য লড়বে শেষ ম্যাচে। গত ম্যাচের পুরস্কার বিতরণীতে পল স্টারলিং স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অত্যধিক ভালো খেলছে আর নিজেরা অত্যধিক খারাপ খেলছেন। দুইয়ের সংমিশ্রণে তাদের দিকেই সব নেতিবাচক দিক। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় একটি জয়, যা শেষ ম্যাচে পেতে চান।

স্টারলিংয়ের আশা সঠিক। তবে শেষ ম্যাচেও ছাড় না দেওয়ার যে হুঙ্কার বাংলাদেশ দিয়ে রেখেছে তাতে আয়ারল্যান্ডের আশা পূরণ হবে তো!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত